ঢাকা ১২ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
পার্বত্য চট্টগ্রামে ষড়যন্ত্র: সার্বভৌমত্বের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের পথ ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা করলেন বাবা পলিসি ক্যাম্প ২০২৬-এ বরগুনার তরুণ মোঃ সোহানুর রহমান সৈকত ফাইনালিস্ট হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ মৃত্যু সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে ভারত থেকে দেশে আসছে ১৯টি নতুন রেলবগি হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী সাভারে ফের বোমাসদৃশ প্রেসারকুকার উদ্ধার, ঘটনাস্থলে ডিসপোজাল ইউনিট আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা কানাডার

ঘর ভাড়া দিতে না পেরে একই পরিবারের ৪ জনের আত্মহত্যা

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৮ জুন, ২০২৬,  3:32 PM

news image

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালার মুভাত্তুপুঝা নদী থেকে এক ব্যক্তি, তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্ত্রী এবং দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। 


বাড়ি ভাড়া পরিশোধ করতে না পারার চরম মানসিক ও অর্থনৈতিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পুরো পরিবারটি নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় পরিবারের বড় মেয়েটি এখনও নিখোঁজ রয়েছে এবং তার সন্ধানে উদ্ধারকারী দল অভিযান অব্যাহত রেখেছে। 


কেরালার কোচি এলাকার স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে পিরাভম অঞ্চলের কাছে মুভাত্তুপুঝা নদীতে প্রথম দুটি মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে পুলিশ গিয়ে নদী থেকে মুভাত্তুপুঝা এলাকার বাসিন্দা ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী ভিজি এবং তার দুই বছর বয়সী শিশুপুত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে।


এই ঘটনার পরপরই বিজির স্বামী নারায়ণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এরপর গত শনিবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের সহায়তায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে স্বামী নারায়ণের মৃতদেহও উদ্ধার করা হয়।



পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও নথিপত্র অনুযায়ী মৃত নারায়ণ মূলত পালক্কাড় এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি তার পরিবার নিয়ে কোঠামঙ্গলম অঞ্চলের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। 


চরম দরিদ্র ও অসহায় এই দম্পতির ঘরে দুটি সন্তান ছিল এবং কদিন আগে পুরো পরিবারটিকে পিরাভম এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল। প্রথম দিন নদী থেকে মা ও শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর আত্মীয়স্বজনরা নারায়ণ এবং তার বড় মেয়ের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্যই পুলিশকে দিতে পারেননি।


অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে যে নারায়ণ ও তার পরিবার সম্প্রতি বাড়ি ভাড়া দিতে না পেরে কোঠামঙ্গলম থানা পুলিশের কাছে আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলেন। স্থানীয় পুলিশ মানবিক কারণে তাদের জন্য একটি বিকল্প এবং কম খরচের বাসস্থানের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিল, যেখানে আগামী রবিবার তাদের নতুন করে চলে যাওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া পিরাভম এলাকার একটি রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে গত বৃহস্পতিবার পুরো পরিবারটিকে একসঙ্গে রাতের খাবার খেতে দেখা গেছে।


পিরাভম থানা পুলিশ এই মর্মান্তিক ঘটনায় একটি নিয়মিত অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে তাদের আইনি তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। নদী থেকে উদ্ধার হওয়া তিনটি মৃতদেহই স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর শেষকৃত্যের জন্য তাদের আত্মীয়স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। 


নিখোঁজ থাকা বড় মেয়ের সন্ধানে গতকাল শনিবার রাতে আলোর স্বল্পতার কারণে উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত করা হলেও আজ রবিবার সকাল থেকে পুনরায় নদীতে তল্লাশি শুরু হয়েছে।


সূত্র: এনডিটিভি

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম