ঢাকা ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি আলোচনা নিয়ে সুখবর দিল পাকিস্তান ইউএইচএফপিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী প্রথম হজ ফ্লাইটে ৪১৯ বাংলাদেশি সৌদি আরব পৌঁছেছেন খুলনা রেলওয়ে পুলিশ লাইনে কনস্টেবলের রহস্যজনক মৃত্যু ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে মেটা প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ‘ফুয়েল পাস’ নিয়ে নতুন বার্তা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এনসিপিতে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে যা বললেন রুমিন ফারহানা ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ রাজধানীতে রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রাণ গেল এক নারীর

খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেলেও ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৮ জুলাই, ২০২৫,  11:23 AM

news image

জরুরি সরবরাহব্যবস্থা তদারকির ওপর জোর দেওয়ার সুপারিশ জিইডির

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই দেশের অর্থনীতিতে পুনরুদ্ধারের আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দিচ্ছে, যদিও সামনে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) তাদের সাম্প্রতিক মাসিক অর্থনৈতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে অর্থনৈতিক গতিপথ নিয়ে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিনিয়োগ স্থবিরতা, শিল্প স্থবিরতা এবং বৈশ্বিক প্রতিকূলতা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পালটা শুল্কের কারণে প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা সীমিতই থাকছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি অর্থবছরের জন্য তাদের পূর্বাভাস কমিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক ৩.৩ শতাংশ থেকে ৪.১ শতাংশ এর মধ্যে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে, যেখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এটি ৩.৯ শতাংশ অনুমান করেছে। ২০২৬ অর্থবছরে ৫.১ শতাংশ-৫.৩ শতাংশ এ একটি মাঝারি প্রত্যাবর্তন আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খাদ্যমূল্য হ্রাসের কারণে মূল্যস্ফীতি ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চালের দামে ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রেমিট্যান্সে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার সামান্য মূল্যবৃদ্ধি, পণ্য রপ্তানির প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বহিরাগত খাত স্থিতিস্থাপকতা প্রদর্শন করে। এছাড়াও, চলমান সংস্কার উদ্যোগের ফলে পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার কারণে জুন মাসে রাজস্ব সংগ্রহের প্রচেষ্টা ব্যাহত হয়েছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর হিসাবে দেখা যায়, কর কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার কারণে জুন মাসে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ থাকার ফলে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে। জিইডি জোর দিয়ে বলেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহ, রপ্তানি কর্মক্ষমতা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি জিডিপি সমর্থন করার মূল চাবিকাঠি হবে। প্রতিবেদনে ক্রমবর্ধমান উপকরণ ব্যয়, ফসল কাটার পরবর্তী ক্ষতি, পরিবহন খরচ এবং অনুমানমূলক মজুতকে চালের মূল্য বৃদ্ধিও সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করে জরুরি সরবরাহ ব্যবস্থা তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতও আমানত এবং ঋণ বৃদ্ধির ক্রমহ্রাসমানতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছে। মূল্যাস্ফীতি, কঠোর মুদ্রানীতি এবং আমদানি অর্থায়ন হ্রাসের কারণে টানা ছয় মাস ধরে বেসরকারি খাতের ঋণ ৮ শতাংশ এর নিচে রয়ে গেছে। সামগ্রিকভাবে, অক্টোবরের অসংগতি বাদে মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল স্তর ধারাবাহিক, যদিও মাঝারি, বিনিয়োগের গতির ইঙ্গিত দেয়। এতে আরো বলা হয়েছে, অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে এবং ভবিষ্যতের ধাক্কা সামলাতে এখনই কিছু বড় পরিবর্তন দরকার। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নতুন উদ্ভাবনে জোর দেওয়া, বিনিয়োগ বাড়ানো, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম