কুষ্টিয়ার বাজারে চালের কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 4:38 PM
নিজস্ব প্রতিনিধি
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 4:38 PM
কুষ্টিয়ার বাজারে চালের কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা
হঠাৎ করেই কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালের মোকামে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। খুচরা পর্যায়ে বাসমতি, মিনিকেট, কাজল লতা, আটাইশ, স্বর্ণা চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোকামে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।
আজ বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়া পৌরবাজারে চাল কিনতে আসেনশহরের মিলপাড়ার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন। তিনি জানান, গত সপ্তাহে ২৫ কেজি ওজনের মিনিকেট চালের বস্তা কিনেছিলেন ১ হাজার ৬২৫ টাকায়। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১৭৫০ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। এ ব্যাপারে তিনি বাজার মনিটরিংকে দায়ী করেন।
মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ বাজারে ধানের হাটে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহে ধানের দাম খুব একটা বাড়েনি। কিন্তু মিনিকেট চাল উৎপাদনের জন্য সরু ধান বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বিনা-৭ জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০ টাকা মণে। এখন কৃষকের কাছে তেমন ধান নেই। মিনিকেট চাল উৎপাদনের জন্য অনেক আগেই মিল মালিকরা ধান কিনে গুদামজাত করে রেখেছেন। ফলে মিলাররা তাদের ইচ্ছামতো চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
খাজা নগরে অবস্থিত হযরত অটোরাইচ মিলের মালিক হযরত আলী জানান, ধানের দাম বৃদ্ধি এবং বৃষ্টির কারণে চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল মিলগেটে বাসমতি চাল ৮৫ টাকা কেজি ও মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে ৫৮ টাকা কেজি দরে। সেই চাল আজ বিক্রি হচ্ছে ৮৮ টাকা কেজি ও ৬২ টাকা কেজি। এর কারণে খুচরা বাজারে পড়েছে এর প্রভাব। খুচরা বাজারে ভোক্তারা বাসমতি চাল ৯০ টাকা কেজি এবং মিনিকেট চাল ৭০ টাকা কেজি দরে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
কুষ্টিয়া পৌরবাজারের বাজারের চাল ব্যবসায়ী চাঁদ আলী বলেন, ‘মিল মালিকরা দাম বাড়াচ্ছে বলেই বেশি দামে চাল বিক্রি করতে আমরা বাধ্য হচ্ছি। মিল মালিকরা চালের দাম কমালে আমরাও কম দামে বিক্রি করতে পারব।’
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, ‘কোন কোন মিল মালিক চালের দাম বাড়াচ্ছে আমরা তাদের তথ্য সংগ্রহ করছি। দু-এক দিনের মধ্যেই তদন্ত সাপেক্ষে আমরা অভিযান পরিচালনা করব। যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’
কারা চালের দাম বাড়াচ্ছেন, তাদের তথ্য দেওয়ার জন্য জনসাধারণে প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডিসি বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে।