কুরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যে ৬ ব্যক্তি
১৮ আগস্ট, ২০২৬, 11:13 AM
NL24 News
১৮ আগস্ট, ২০২৬, 11:13 AM
কুরআনের দৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত যে ৬ ব্যক্তি
১. আল্লাহর সঙ্গে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী
যারা আল্লাহর সঙ্গে ইমানের অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, কুরআনে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ أُولَٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
‘যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক বজায় রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে; তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।’ (সুরা বাকারা: আয়াত ২৭)
২. শিরককারী বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীদার স্থাপনকারী
শিরক মানবজাতির সবচেয়ে বড় এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করে, সে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—
لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
‘(হে নবী!) যদি আপনি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করেন, তবে আপনার আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং আপনি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।’ (সুরা যুমার: আয়াত ৬৫)
৩. আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী
যারা অহংকারবশত আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াত ও নিদর্শনগুলোকে অস্বীকার করে, আখেরাতে তাদের আমলের পাল্লা হালকা হয়ে যাবে এবং তারাই হবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُم بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ
‘আর যাদের (নেকির) পাল্লা হালকা হবে, তারাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, কারণ তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি অবিচার (অস্বীকার) করত।’ (সুরা আরাফ: আয়াত ৯)
৪. পরকাল ও আল্লাহর সাক্ষাৎ অস্বীকারকারী
যারা মনে করে এই দুনিয়ার জীবনই শেষ এবং মৃত্যুর পর আর কোনো হিসাব-নিকাশ নেই, কুরআন তাদের সুস্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘোষণা করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ
‘নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে মিথ্যা মনে করেছে।’ (সুরা আনআম: আয়াত ৩১)
৫. পরিবারকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেওয়া ব্যক্তি
যে ব্যক্তি নিজে তো আমল করেই না, বরং নিজের পরিবার ও সন্তানদেরও ইসলামের সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে, কিয়ামতের দিন সে এক ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
قُلْ إِنَّ الْخَاسِرِينَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَأَهْلِيهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ أَلَا ذَٰلِكَ هُوَ الْخُسْرَانُ الْمُبِينُ
‘বলুন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের এবং নিজেদের পরিবার-পরিজনকে ক্ষতির মধ্যে ফেলবে। জেনে রেখো, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।’ (সুরা যুমার: আয়াত ১৫)
৬. ইমান, সৎকর্ম ও সত্যের পথ থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি
সময়ের কসম খেয়ে মহান আল্লাহ জানিয়েছেন, সব মানুষই ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত, কেবল সেই ভাগ্যবানরা ছাড়া, যারা ৪টি গুণের অধিকারী। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَالْعَصْرِ * إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ * إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ
‘কালের (সময়ের) শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ চরম ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ছাড়া— যারা ইমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।’ (সুরা আসর: আয়াত ১-৩)
কুরআনের এই আয়াতগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, প্রকৃত সফলতা ব্যাংক ব্যালেন্স বা দুনিয়াবি পদমর্যাদায় নয়। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সে-ই, যে তার ইমান হারিয়েছে, রবের অবাধ্য হয়েছে এবং আখিরাতকে ভুলে গেছে। পক্ষান্তরে, আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস, সৎকর্ম, মানুষকে সত্যের পথে ডাকা এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করাই হলো চূড়ান্ত সফলতার চাবিকাঠি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ৬ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে হেফাজত করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতা দান করুন। আমিন।