ঢাকা ২০ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিএনপি কখনোই একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ সরকারি চাকরিজীবীদের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাবে টাঙ্গাইলে পরিত্যক্ত কূপে নেমে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু পেনশনে বড় সুখবর, বাড়বে আর্থিক সুবিধা মোহাম্মদপুরের অপরাধীদের কড়া হুঁশিয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শরণখোলায় ইউএনওর বাসভবন থেকে সাপ উদ্ধার কালিয়াকৈরে সেই কারখানায় পানি পান করে আবারও হাসপাতালে শ্রমিকরা দেশে খাদ্যশস্যের মজুদ ২০ লাখ ৬০ হাজার টন ছাড়িয়েছে

কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই

#

ক্রীড়া প্রতিবেদক

২০ জুন, ২০২৬,  2:24 PM

news image

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি খেলোয়ার ও সংগঠক আবদুস সাদেক মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দূরারোগ্য ক্যানসারের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর লড়াই করে রাজধানীর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার সকাল ৮টায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমের প্রথম জানাজা আজ বাদ আসর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার আই ব্লকের বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর বনানী ওল্ড ডিওএইচএস মাঠে।

প্রসঙ্গত, আবদুস সাদেকের ছোট ভাই দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। এ ছাড়া মরহুমের বড় ছেলে টি স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ইশতিয়াক সাদেক।

অবিভক্ত পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের তারকা খেলোয়ার ছিলেন আবদুস সাদেক। ফুটবল ও ক্রিকেটেও ছিলেন সমান পারদর্শী।

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লিমিটেড) প্রথম ফুটবল অধিনায়ক এবং হকি অধিনায়ক ছিলেন তিনি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৬ সালে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। তার বাবা অ্যাডভোকেট আবদুস সোবহান ব্রিটিশ আমলে খ্যাতিমান সাঁতারু ছিলেন।

খেলোয়াড়ি জীবনে আবদুস সাদেক পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের হয়ে ইউরোপ সফর করেন। ১৯৬৯ সালে দেড় মাসব্যাপী ওই সফরে তিনি ও তার সতীর্থরা জার্মানি, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডে খেলেন। ফেরার পথে মিসরের বিপক্ষেও একটি ম্যাচে অংশ নেন তিনি। ওই সফরে মাঠের নৈপুণ্যে দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন এই তারকা খেলোয়াড়।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে কুমিল্লা জেলা দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুস সাদেক।

ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ১৯৭৭ সালে আবাহনীর প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব নেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই গড়েন ইতিহাস। তার অধীনে ওই মৌসুমে কোনো ম্যাচেই হারেনি আবাহনী। তিনটি ম্যাচ ড্র ছাড়া বাকি সব ম্যাচেই জয় পায় দলটি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ক্লাব হিসেবে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে আবাহনী। স্বাধীন বাংলাদেশে এটিই ছিল কোনো দলের প্রথম অপরাজিত লিগ শিরোপা জয়।

কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আবদুস সাদেক। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার উদ্যোগ ও প্রচেষ্টায় ১৯৮৫ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এশিয়া কাপ হকি। ক্রীড়াঙ্গনের এই নিবেদিতপ্রাণ সংগঠকের মৃত্যুতে হকি ফেডারেশনসহ বিভিন্ন মহল শোক প্রকাশ করেছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম