কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে হতাহত ৪৩, নাশকতার ইঙ্গিত নেই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, 11:11 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ অক্টোবর, ২০২৬, 11:11 AM
কানাডার সামরিক ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডে হতাহত ৪৩, নাশকতার ইঙ্গিত নেই
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪ সেনাসদস্য নিহত ও অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে কানাডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,‘এ মুহূর্তে আগুনের সঙ্গে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।’
শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে দেশটির অন্যতম ব্যস্ত সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইট’-এ আগুনের সূত্রপাত হয়।
রবিবার রাজধানী অটোয়া থেকে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই ঘটনাকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আলবার্টার প্রাদেশিক সরকারের প্রধান (প্রিমিয়ার) ড্যানিয়েল স্মিথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৯ জনের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সেনাসদস্যরা হলেন, সার্জেন্ট মরগান ওং এবং সৈনিক শন ফারেল, এইডান গুল্ডিং ও হেইডেন লাইকমার্ক।
মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা গ্রেনেড রেঞ্জ এবং অ্যাটাক রেঞ্জে আসল গোলাবারুদ ব্যবহার করে ‘উচ্চ-মাত্রার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ’ চালাচ্ছিলেন। সেখানে গ্রেনেড লাঞ্চার, গ্রেনেড, ছোট অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহার করা হচ্ছিল।
প্রশিক্ষণ স্থান থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে শুকনো ঘাসে প্রথম আগুনের সূত্রপাত হয়। অস্বাভাবিক তীব্র বাতাসের কারণে সেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং গতিপথ বদলে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকার দিকে চলে আসে।
ঘাঁটিতে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে সামরিক বাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো সারা রাত ধরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে লড়াই করে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড বা নাশকতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে নিশ্চিত করেছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।
দুর্ঘটনার পরই আলবার্টা প্রদেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাদের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং ২২টি অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে ওয়েনরাইট থেকে প্রাদেশিক রাজধানী এডমন্টনের বড় হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি