কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 12:15 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 12:15 PM
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী
জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই তাদের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠাই এই মুহূর্তে সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ- সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এর আগে গতকাল সোমবার দেওয়া ওই বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গণতন্ত্রকামী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং তাঁদের গণতান্ত্রিক ও মানবিক অধিকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। এবারের গণতন্ত্র দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য হলো ‘রেইজিং হ্যান্ডস অ্যান্ড ভয়েসেস- ফস্টারিং এজেন্সি অ্যান্ড ওনারশিপ থ্রু ডেলিবারেটিভ ডেমোক্র্যাসি’।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের মূল দর্শন কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠাই এর আসল উদ্দেশ্য। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার দেশের মানুষের ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার পুনরায় ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের ইতিহাস টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই বিভিন্ন সময় এ দেশের মানুষের অধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে মানুষের বাক, ব্যক্তি ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর আবারও জনগণের সব অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন ও শোষণ কায়েম করা হয়েছিল। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা সেই শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বীর ছাত্র-জনতা এক রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে।
বিএনপি সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে, সব সময়ই গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমেই জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদার রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ন্যায়ভিত্তিক সামাজিক স্থিতিশীলতা গড়ে তোলাই তার সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।