ঢাকা ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে মিলল নাতনির বিবস্ত্র লাশ পাক-আফগান যুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেবে না বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঈদে ভাড়া বাড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: সড়কমন্ত্রী আ.লীগের সাবেক এমপি মারা গেলেন কলকাতায় ঈদের সম্ভাব্য তারিখ জানালেন জ্যোতির্বিদরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম চাঁদপুরে স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা ৩ বাসে আগুন জামায়াতের ইফতারে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাকিস্তানের সামরিক ক্যাম্পে আফগানিস্তানের মুহুর্মুহু হামলা

এডিসি সানজিদা আফরিনকে কোথাও বদলি করা হয়নি

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩,  3:51 PM

news image

অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনকে কোথাও বদলি করা হয়নি বলে জানিয়েছেন ডিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) মো. ফারুক হোসেন। বুধবার (১২ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ছাত্রলীগ নেতাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদকে পুলিশের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে এডিসি হারুনকে রংপুরের ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করার বিষয়টি জানানো হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয় এডিসি সানজিদাকেও বদলি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ফারুক হোসেন বলেন, এডিসি সানজিদা আফরিনকে কোথাও বদলি বা প্রত্যাহারের আদেশ হয়নি। তিনি আরও জানান, থানায় নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের নির্যাতনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আবেদনের প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ এবং সুষ্ঠু তদন্তের জন্যই আরও পাঁচ কার্য দিবস সময় বাড়ানো হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার পুলিশের সাময়িক বরখাস্ত এডিসি হারুন অর রশিদ, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে মারধর এবং রাষ্ট্রপতির এপিএস নিজের স্বামী আজিজুল হক মামুনের মধ্যকার ঘটনার বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে বর্ণনা দেন সানজিদা আফরিন। সানজিদা জানান, তার স্বামীসহ আরও কয়েকজন প্রথমে এডিসি হারুনকে মারধর করেন। এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, সানজিদার সঙ্গে আমি কথা বলিনি। সানজিদা এ ধরনের কোনো স্টেটমেন্ট দিয়ে ঠিক করেননি। কারণ কমিশনারের অনুমতি ছাড়া তিনি এভাবে স্টেটমেন্ট দিতে পারেন না। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমাদের কাছে মনে হয়েছে এডিসি হারুন এবং ইন্সপেক্টর মোস্তফা দুজনই বাড়াবাড়ি করেছেন। আইনের ব্যত্যয় ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরে আমাদের অফিসারদের কার কতটুকু দোষ সেই অনুসারে আমরা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবো। অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকলে পুলিশ সদর দপ্তর বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশসহ প্রেরণ করবো। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলতে পারব না। এর আগে সময় সংবাদকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সানজিদা বলেন, ‘আমার স্বামীসহ আরও কয়েকজন প্রথমে এডিসি হারুন স্যারকে মারধর করেন।’ সানজিদা আরও বলেন, ‘‘ডাক্তার আমাকে কিছু টেস্ট দেন। আমি সেগুলোর জন্য স্যাম্পল দিচ্ছি। যখন এ ঘটনা ঘটে তখন আমি ইটিটি রুমে ছিলাম। ইটিটি রুম থেকে আমি প্রথম যে শব্দ শুনতে পাই, স্যার খুব জোরে বলছেন যে, ‘ভাই আপনি আমার গায়ে কেন হাত দিচ্ছেন। আপনিতো আমার গায়ে হাত দিতে পারেন না’।’’ ‘আমি প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। আমার মনে হয়েছিল যে, অন্য কারও সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয়েছে বা এরকম কিছু। পরে আমি আমার হাজব্যান্ডের গলার আওয়াজও শুনতে পাই। তখন আমার হাজব্যান্ডসহ কয়েকজন ছেলে যাদেরকে আমি চিনতাম না তারা স্যারকে মেরে টেনেহিঁচড়ে রুমের ভেতরে নিয়ে আসেন।’ এ সময় তার স্বামী মামুন তাকেও মারধর করেছেন অভিযোগ তুলে সানজিদা বলেন, ‘‘আমি যখন ভিডিও না করার জন্য চিৎকার করে বলছিলাম, তখন আমার হাজব্যান্ড আমার গায়েও হাত তুলেন। এ সময় তারা স্যারকেও মারধর করেন। তখন আমি তাদের কাছ থেকে ক্যামেরাটা নিয়ে নিয়েছিলাম। বলেছিলাম যে, ‘আপনারা এই অবস্থায় ভিডিও করতে পারেন না।’ তখন ছেলেগুলো ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে আমার সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করে। এরমধ্যে রুমে হাসপাতালের সিকিউরিটিরা চলে আসে। আর কিছুক্ষণ পর, প্রায় ১০-১৫ মিনিট পর থানার ফোর্স এসে তাদেরকে নিয়ে যায়।’’ ৯ সেপ্টেম্বর রাতে শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের দুই নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এডিসি হারুনের বিরুদ্ধে। এর জেরে ওইদিন রাতেই শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশের কর্মকর্তারা থানায় গিয়ে মধ্যরাতে মীমাংসা করেন। তবে ঘটনাটি আলোচনার জন্ম দেয়। এ ঘটনায় ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এডিসি হারুনকে রমনা বিভাগ থেকে সরিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দাঙ্গা দমন বা পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় তাকে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয় বলেও জানানো হয়। পরের দিন ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে এডিসি হারুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সবশেষ তাকে পুলিশের রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত থাকা অবস্থায় বিধি অনুযায়ী তিনি খোরপোষ ভাতা পাবেন।  

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম