ঢাকা ২২ জুন, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী বাজেটে শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন: শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের মুগুরের আঘাতে স্কুলশিক্ষক বাবা নিহত পদত্যাগ করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মালয়েশিয়া থেকে চীনের পথে প্রধানমন্ত্রী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেওড়াপাড়ায় চলন্ত মোটরসাইকেলে ছোড়া ইটের আঘাতে আহত তরুণের মৃত্যু ঢাকাসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ ‘ইসলামী ব্যাংক নিয়ে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না’ : বাংলাদেশ ব্যাংক ইলিশ সংরক্ষণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী ভিসা ফি উল্লেখযোগ্যহারে বাড়িয়েছে জাপান

ইলিশ সংরক্ষণ ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ জুন, ২০২৬,  2:59 PM

news image

ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, ইলিশকে শুধু দেশের চাহিদা পূরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রপ্তানিযোগ্য সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ইলিশ রপ্তানির সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ইলিশের নিরাপদ বিচরণ ও প্রজননের জন্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ এবং পানির গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। শিল্পবর্জ্য ও বিষাক্ত পদার্থ নদীতে নিঃসরণ বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, জাটকা নিধন, মা ইলিশ আহরণ ও কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, কারণ এগুলো ইলিশসহ দেশের বিভিন্ন দেশীয় মাছের জন্য মারাত্মক হুমকি।অধিকাংশ জেলে দাদননির্ভর জীবনযাপন করেন। তাই তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতেও নতুন উদ্যোগ নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ইলিশসম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ, মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টি সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতেই ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য তালিকায় ইলিশের অবস্থান সবার শীর্ষে। বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। ফলে বাংলাদেশের ইলিশের প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। তাই ইলিশকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে হবে।

গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, উদ্ভাবন ও গবেষণায় অধিক বিনিয়োগ করতে হবে। ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।

জেলেদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলেদের জন্য প্রায় ২৪ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সহায়তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতেও সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, ইলিশ সংরক্ষণে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণ ও সচেতনতা ছাড়া টেকসই সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়।

কর্মশালায় মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনকের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আবদুছ ছালাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্যাহ।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও মৎস্যজীবীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম