ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন গতি, সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন ট্রাম্পের দূত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ জুন, ২০২৬, 11:12 AM
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ জুন, ২০২৬, 11:12 AM
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন গতি, সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন ট্রাম্পের দূত
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি ও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় নতুন করে গতি এসেছে। যুদ্ধবিরতির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার প্রথম ধাপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে এই আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার সফর স্থগিত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তেহরান শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে যুদ্ধবিরতিকে আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগের পথ কিছুটা সহজ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন উইটকফ। এই বৈঠককে ভবিষ্যৎ সমঝোতার ভিত্তি তৈরির প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল বেশ উত্তপ্ত। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হন এবং যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও বিচ্ছিন্ন হামলার অভিযোগ ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে অনাগ্রহী ছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংযত আচরণের আহ্বান জানান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং ইরানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, গত বুধবার ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন, যা ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যদিও আলোচনার পরিবেশ কিছুটা ইতিবাচক হয়েছে, তবুও পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের একটি অংশ শুরু থেকেই এই সমঝোতার বিরোধিতা করে আসছে, যা ভবিষ্যতে আলোচনার পথে নতুন বাধা তৈরি করতে পারে। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
তথ্য সূত্র- রয়টার্স।