ঢাকা ২৪ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু মেডিকেল কলেজে ৫০ ও জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইতিহাস গড়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে বাংলাদেশ দেশের বিমান খাত নিয়ে সরকারের বিশাল পরিকল্পনা তুলে ধরলেন বিমানমন্ত্রী রংপুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, কারণ জানাল পুলিশ রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে থেকে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু জানালা দিয়ে পানি চাইছিল দুই শিশু, তালা ভেঙে মিলল মায়ের মরদেহ ফেসবুকে শিক্ষকদের সরকারবিরোধী পোস্ট মনিটরিংয়ে নতুন নিয়ম গ্যাসের অভাবে বন্ধ আশুগঞ্জ সার কারখানা, নষ্ট হচ্ছে যন্ত্রপাতি

ইনিংস ব্যবধানে ২ দিনেই ম্যাকাই টেস্ট হারল বাংলাদেশ

#

স্পোর্টস ডেস্ক

২৩ আগস্ট, ২০২৬,  11:41 AM

news image

ডারউইনের ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে এসে একেবারেই উল্টো চিত্র বাংলাদেশের। মাত্র দুই দিনেই ইনিংস ও ৫১ রানের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ হলো।

ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় অস্ট্রেলিয়া। শুরু থেকেই মিচেল স্টার্কের তোপে পড়ে মাত্র ৬৪ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। জবাবে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াও চাপে পড়েছিল। আগের দিনের দুই উইকেট নিয়ে আরও ৪৫ রান যোগ করে ২১০ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ফলে প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। ক্যামেরন গ্রিনকে ৬৭ রানে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে ৭ উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেটটি নেন তাইজুল ইসলাম। নাথান লায়ন ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন।

শরিফুলের ৪৮ রানে ৭ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সফরকারী বাঁহাতি পেসারের সেরা বোলিংগুলোর একটি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টের এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়ার প্রথম কীর্তিও গড়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২৭ রানে ৬ উইকেট পেয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন, সেটিই এতদিন ছিল পেসারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগার। ১৮ বছর পর এই রেকর্ড ভাঙলেন শরিফুল। এছাড়া দেশের বাইরের টেস্টে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগার এখন শরিফুলের। দুই মাস আগে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৩৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট পেয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ের সেই দুর্দশা কাটেনি। দ্রুত একের পর এক উইকেট হারিয়ে আবারও বড় বিপদে পড়ে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে মাত্র ৯৫ রানে গুটিয়ে দেন স্বাগতিক বোলাররা। এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া মুশফিকুর রহিম শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। দলের সর্বোচ্চ ৩১ রান আসে শান্তর ব্যাট থেকে। অন্যদিকে টানা তিন ইনিংসেই ডাক মারেন লিটন দাস। 

চা বিরতির সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ৯৫ রান। ইনিংস পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন ছিল আরও ৫১ রান। তবে বিরতির পর আর কোনো নাটক জমেনি। প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদকে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরান নাথান লায়ন। তৃতীয় বলেই শরিফুল ইসলামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ইনিংসের ইতি টানেন এই অফ স্পিনার। ফলে দুই ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১৫৯ রান। টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ম্যাচের দুই ইনিংসেই ১০০ রানের নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ। এর আগে এক ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সম্মিলিত স্কোর ছিল ১৮৭ রান, ২০১৮ সালে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।

ম্যাচে বাংলাদেশের একমাত্র বড় প্রাপ্তি শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিং। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সাত উইকেট নিয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টের এক ইনিংসে সাত উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই বাঁহাতি। তবে তার অসাধারণ পারফরম্যান্সও দলের ব্যাটিং ব্যর্থতা ঢাকার জন্য যথেষ্ট হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম ইনিংসে মিচেল স্টার্ক ছিলেন দুর্বার। মাত্র ১২ রানে ছয় উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসেও চার উইকেট নিয়ে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট পূর্ণ করেন অজি পেসার।

ডারউইনে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয়ে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাকাইয়ে এসে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে এমন ভরাডুবি তাই বড় হতাশার। দুই দিনের টেস্টে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল, আর বাংলাদেশকে ফিরতে হলো বড় এক শিক্ষা নিয়ে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম