আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস: প্রতি ৩ সেকেন্ডে বিয়ের পিঁড়িতে এক শিশু
১১ অক্টোবর, ২০২৬, 11:52 AM
NL24 News
১১ অক্টোবর, ২০২৬, 11:52 AM
আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস: প্রতি ৩ সেকেন্ডে বিয়ের পিঁড়িতে এক শিশু
আজ রোববার (১১ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। মেয়েদের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকার নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে দিনটি।
বিশ্বজুড়ে এখন বড় উদ্বেগ বাল্যবিয়ে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বে প্রতি তিন সেকেন্ডে একজন কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে। এতে বয়ঃপ্রাপ্তির আগেই বছরে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ হারাচ্ছে লাখ লাখ কিশোরী।
জাতিসংঘের তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালের দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘বাল্যবিয়ে বন্ধ করি, কন্যাশিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’। কন্যাশিশু, সংশ্লিষ্ট অধিকারকর্মী, সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সমন্বিত পরামর্শে এই প্রতিপাদ্যটি নির্ধারণ করা হয়।
জাতিসংঘ আরও জানিয়েছে, প্রতি দুটি বাল্যবিয়ের একটি ঘটে থাকে উন্নয়নশীল বিশ্বে। সবচেয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলের আফ্রিকান দেশগুলোতে; সেখানে ৩১ শতাংশ কন্যাশিশুর বিয়ে হয়ে যায় অপ্রাপ্ত বয়সে।
অল্প বয়সে বিয়ের কারণে মেয়েদের শিক্ষার পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি নানামুখী শারীরিক ও মানসিক ঝুঁকি বাড়ে। দেখা দেয় বিষণ্নতা, মানসিক অস্থিরতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। এমনকি বিশ্বজুড়ে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সের কিশোরী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ আত্মক্ষতি।
তবে সঠিক পরিকল্পনায় বাল্যবিয়ে দূর করা সম্ভব বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। গত ২৫ বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে জোর দেওয়া, আইন প্রণয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে আনুমানিক ৬ কোটি ৮০ লাখ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা গেছে।
বিয়ে রোধে মেয়েদের স্কুলে ধরে রাখা, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ করা এবং প্রথাগত কুসংস্কার ও ক্ষতিকর সামাজিক নিয়ম বদলানোর তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ। পাশাপাশি তাদের নেতৃত্ব বিকাশ ও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মতামত জানানোর পথ উন্মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের ‘বিশ্বের কন্যাশিশুদের অবস্থা’ শীর্ষক গবেষণায় পাঁচ হাজার কিশোরী ও তরুণীর মতামত নেওয়া হয়। এতে উঠে এসেছে, পরিবেশ ও জলবায়ুজনিত দুর্যোগ কীভাবে মেয়েদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিপন্ন করছে। প্রতিবেদনে বৈশ্বিক জলবায়ু সংকটের সঙ্গে যৌন নিপীড়ন, বাল্যবিয়ে ও অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের গভীর যোগাযোগের বিষয়টি উঠে আসে।
১৯৯৫ সালের বেইজিং বিশ্ব নারী সম্মেলনে কন্যাশিশু দিবস পালনের ঐতিহাসিক ভিত্তি তৈরি হয়। তৎকালীন বেইজিং ঘোষণা নারী ও মেয়েদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রাখে। পরবর্তীকালে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত সিদ্ধান্তে প্রতি বছর ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালনের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের মতে, কন্যাশিশুরা নিরাপদ পরিবেশ, শিক্ষা ও সুযোগ পেলে তারা পরিবার, সমাজ তথা পুরো দেশের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে সক্ষম। সূত্র: প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল