ঢাকা ১২ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ছেলে-মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হাওরে ফেলে হত্যা করলেন বাবা পলিসি ক্যাম্প ২০২৬-এ বরগুনার তরুণ মোঃ সোহানুর রহমান সৈকত ফাইনালিস্ট হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ মৃত্যু সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে ভারত থেকে দেশে আসছে ১৯টি নতুন রেলবগি হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র: বাণিজ্যমন্ত্রী সাভারে ফের বোমাসদৃশ প্রেসারকুকার উদ্ধার, ঘটনাস্থলে ডিসপোজাল ইউনিট আ. লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার খবরটি গুজব: তথ্যমন্ত্রী বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চমাত্রার সতর্কতা কানাডার সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন নামঞ্জুর

আধুনিক যন্ত্রনির্ভার কৃষি: বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হালচাষ

#

১২ এপ্রিল, ২০২২,  2:45 PM

news image

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা :
বর্তমানে দেশের কৃষি প্রধান অন্যান্য অঞ্চলের মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার চিত্র একেবারেই অভিন্ন। একসময় নদী, বিল ও গ্রামীণ পলিবাহিত উর্বর কৃষিনির্ভর এই জেলার মানুষদের কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙতো লাঙ্গল জোয়াল আর হালের গরুর মুখ দেখে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখন সেই জেলার মানুষদের ঘুম ভাঙে ট্রাক্টরের শব্দে। জেলার গ্রামীণ কৃষকের ফসল ফলানোর জন্য জমি চাষের একমাত্র অবলম্বন ছিল গরু বা মহিষ দিয়ে হালচাষ। গ্রামবাংলার কৃষকের হাজার বছরের লালন করা ঐতিহ্য গরু দিয়ে হালচাষ যন্ত্রনির্ভর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এখন বিলুপ্তির পথে । স্থানীয় প্রবীণরা জানান, একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ছিল গরুর লালন-পালন। তাদের একের পর এক জমি চাষ করার কাজে ব্যবহার করা হতো। তাজা ঘাস আর ভাতের মাড়, খৈলের ভুসি ইত্যাদি খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করে তোলা হালের জোড়া বলদ দিয়ে জমি চাষে বেড়াতেন কৃষক। হালচাষের জন্য প্রশিক্ষিত জোড়া বলদের মালিককে সিরিয়াল দিতে হতো জমি চাষে দেয়ার জন্য। চাষের মৌসুমে তাদের কদর ছিল অনেক। হালচাষের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গরু-মহিষ পালন করা হতো। মাঠ-প্রান্তরে হরহামেশাই চোখে পড়ত গরু দিয়ে হালচাষ। নিজের সামান্য জমিতে হালচাষের পাশাপাশি জীবিকার উৎস ছিল। এসব চিত্র এখন দেখা যায় না। শিবগঞ্জ উপজেলার হাঙ্গামী গ্রামের প্রবীণ কৃষক আতাউর রহমান বলেন, তার জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে হালচাষ আর গরুর পালের সঙ্গে। সেই দিনগুলো এখন অতীত স্মৃতি। তিনি আরও বলেন, লাঙলের ফলায় জমি গভীর পর্যন্ত ওলট-পালট হয়ে নিচের পুষ্টিগুণ ওপরে চলে আসে। বাতাস সহজে চলাচলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় ও মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক চাষাবাদে কেঁচোসহ উপকারী কীটপতঙ্গ ধ্বংস হয় না, জমিতে ঘাস কম হয়, গরুর গোবর জমিতে পড়ে জৈব সারে ফসল ভালো হতো। স্বল্প সময়ে জমি চাষ হলেও জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। তারাপুর এলাকার করিম বলেন, ছোট থেকেই দেখেছি বাপ-দাদারা ফজরের আযানের ধ্বনির পর পরই কাঁধে লাঙ্গল-জোয়াল, মই, গরু নিয়ে মাঠে যেত হালচাষের জন্য। সকালে এক থালা পান্তা, কাঁচা ও পোড়ানো শুকনো মরিচ, খাঁটি সরিষার তেল, আলুর ভর্তা দিয়ে পাঠালে জমির আইলে বসে পেট ভরে খেত। এ ঐতিহবাহী খাবারের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে চাষের বলদ ও লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ। ভোলাহাট উপজেলার ফতেহপুর এলাকার কৃষক সোবহান আলী বলেন, ছোট বেলা থেকে হালচাষের কাজ দেখভাল করতেন। বর্তমান সময়ে ট্রাক্টরের দাপটে এখন আর গরু দিয়ে হালচাষ হয় না বললেই চলে। অনেকেই এখন গরু পালন ছেড়ে দিয়েছেন। এখন আমরা সেই পুরনো স্মৃতিগুলোকে আঁকড়ে ধরে কষ্টের দিনগুলোর কথা মনে করে সময় পার করছি। শিবগঞ্জ ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক শামশুজ্জোহা বিদ্যুৎ বলেন, আধুনিকতার ছুঁয়ায় মানুষ যেভাবে দ্রুত এগিয়ে চলেছে, এতে গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখা খুবই দুরূহ ব্যাপার। তবুও জেলার কিছু কিছু স্থানে আমাদের কৃষকরা এ ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার কৃষি ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য নিয়ে এসেছে স্বীকার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মোদ নজরুল ইসলাম বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন প্রযুক্তি নিয়ে এগিয়ে চলছে দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। অল্প পরিশ্রমে, স্বল্প সময়ে অধিক ফসল ফলাতে মানুষ এখন যন্ত্রনির্ভর হয়ে পড়েছে। বর্তমান যুগে কৃষকরাও ঝুঁকছেন ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষাবাদে। এর ফলে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য গরু দিয়ে হালচাষ। হয়তো এই সনাতনী পদ্ধতির হালচাষ একদিন কৃষকের জীবন থেকে উঠে আসবে গল্প, কবিতা, নাটক, সিনেমায়।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম