নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ এপ্রিল, ২০২৬, 2:06 PM
"আব্দুর রউফ চৌধুরী সাহিত্য পদক-২০২৬ প্রদান"
‘সাহিত্য একটি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার প্রধান অবলম্বন; এটি সমাজ-মনন নির্মাণের এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী হাতিয়ার। দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর সাহিত্য আমাদের সমাজের বাস্তবতা ও প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে। নতুন প্রজন্মকে এই ধারার সাহিত্যচর্চায় অগ্রসর হতে হবে; কারণ সাহিত্যই একটি জাতির মুক্তির পথ উন্মোচন করে’-গভীর তাৎপর্যপূর্ণ এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক ও বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক। গত ৪ এপ্রিল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরীর জন্মোৎসব ২০২৬’ এ প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি একথা বলেন।
‘দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী স্মৃতি পর্ষদ’-এর মহাসচিব কথাসাহিত্যিক শামস সাইদের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। অভিনেত্রী ও বাচিকশিল্পী সিফাত বন্যার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে এই দ্রোহী কথাসাহিত্যিকের জীবন, কর্ম ও সাহিত্যিক উত্তরাধিকার নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে দেশের প্রবীণ ও নবীনসহ মোট ১৬জন গুণীজনকে তাঁদের সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সাহিত্য পদক ২০২৬’, ‘স্মারক সম্মাননা ২০২৬’ এবং ‘প্রজন্ম প্রান্তিক সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয়। কবি ফখরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ফুল, ক্রেস্ট, অর্থমূল্য ও উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয়।
এ বছর ‘সাহিত্য পদক ২০২৬’ অর্জন করেছেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশীদ এবং কথাসাহিত্যিক-প্রাবন্ধিক আকিমুন রহমান। আব্দুর রউফ চৌধুরীর ‘নজরুল: সৃজনের অন্দরমহল’, ‘রবীন্দ্রনাথ: চির-নূতনেরে দিল ডাক’, ‘অনিকেতন’ এবং ‘একটি জাতিকে হত্যা’ গ্রন্থসমূহ নিয়ে স্মারক বক্তৃতার জন্য ‘স্মারক সম্মাননা ২০২৬’ অর্জন করেছেন যথাক্রমে কবি ও গবেষক আসাদুল্লাহ, কবি ও গবেষক বীরেন মুখার্জী, কবি-কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. শাফিক আফতাব এবং কবি, কথাসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সোহেল মাজহার।
তরুণ সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রজন্ম প্রান্তিক সম্মাননা ২০২৬’ প্রদান করা হয় ছোটকাগজ সম্পাদক আপন অপু (লক্ষ্মীপুর), পাঠাগার আন্দোলনের কর্মী আলমগীর মাসুদ (ফেনী), ছোটগল্পকার ইসরাত জাহান (পটুয়াখালী), কবি কানিজ পারিজাত (ফরিদপুর), ছোটগল্পকার কামরুন্নাহার দিপা (মেহেরপুর), ঔপন্যাসিক রাশেদ রেহমান (সিরাজগঞ্জ), কবি শব্দনীল (বাগেরহাট), কথাসাহিত্যিক সালাহ উদ্দিন মাহমুদ (মাদারীপুর), কথাসাহিত্যিক সিদ্দিকী হারুন (হবিগঞ্জ) এবং গীতিকাব্য রচয়িতা সিরাজিয়া পারভেজ (সাতক্ষীরা)।