ঢাকা ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
বিমানবন্দরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির ‘অর্ধকোটি’ টাকাসহ আটক নির্বাচন ঘিরে ঢাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতায় পুলিশের স্পেশাল ইউনিট টানা ৪ দিনের সরকারি ছুটি শুরু ক্ষমতায় গেলে এককভাবে সরকার গঠন করবে বিএনপি: তারেক রহমান ভোটারদের কেন্দ্রে আনার জন্য যানবাহন ব্যবহার নিষিদ্ধ: ইসি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবেন প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা : ইসি ভোট দিতে আজও বাড়ির পথে ছুটছে মানুষ, নেই ভোগান্তি পূর্বাচলের নীলা মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড, ৫ দোকান পুড়ে ছাই ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার কিনবে সরকার ইরানের সঙ্গে আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি রণতরী পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প

‘প্রেমঘটিত কারণে’ জোবায়েদ খুন, জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য

#

২০ অক্টোবর, ২০২৫,  11:15 AM

news image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেনের খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা জানিয়েছেন, তিনি ও তার সাবেক প্রেমিক মাহির রহমানের ‘প্রেমের জেরে’ খুন হয়েছেন জোবায়েদ। তবে খুনের পরিকল্পনা বা বাস্তবায়ন সম্পর্কে নিজে কিছু জানতেন না বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্রী। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বর্ষাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এসব তথ্য জানান। ওসি জানান, বর্ষার সঙ্গে মাহির রহমানের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাহির রহমান বোরহান উদ্দীন কলেজে প্রথম বর্ষে পড়েন। আর বর্ষা পড়তেন ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে দ্বিতীয় বর্ষে। ছোটবেলা থেকেই পাশাপাশি বাড়িতে তারা বেড়ে উঠেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে ছিল প্রেমের সম্পর্ক। চতুর্থ শ্রেণি থেকে একে অপরকে পছন্দ করতেন। কিন্তু তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। কিছুদিন আগে তাদের সম্পর্কের ভেঙে যায়। রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক এবং একসঙ্গে বেড়ে উঠায় বর্ষার সঙ্গে তার সাবেক প্রেমিক মাহিরের যোগাযোগ ছিল। বর্ষা তার সাবেক প্রেমিক মাহিরকে জানান, তিনি জোবায়েদকে পছন্দ করেন। কিন্তু জোবায়েদকে তিনি তার পছন্দের কথা এখনো জানাননি। জোবায়েদের সঙ্গে বর্ষার প্রেমের সম্পর্ক ছিল না- উল্লেখ ওসি বলেন, ‘তবুও বর্ষার কথার ওপর ভিত্তি করে রাগে ক্ষোভে মাহির রহমান তার বন্ধুকে নিয়ে জোবায়েদকে খুন করেন। মূলত এটা প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে খুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষার মধ্যে কোনো হতাশা বা অনুশোচনা নেই। তার চেহারায় কান্নার ছাপও পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের সময়ও বর্ষার মধ্যে কোনো নার্ভাসনেসও পাওয়া যায়নি। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বর্ষাকে চিন্তামুক্ত দেখা গেছে। আমরা আরও তদন্ত করব। পরবর্তীতে আরও বিস্তারিত জানানো হবে আনুষ্ঠানিকভাবে।’ এদিকে রোববার (১৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১টা থেকে নিহতের পরিবার মামলা করার চেষ্টা করলেও আজ সকাল সাড়ে ৯টা পার হলেও জোবায়েদ খুনের ঘটনায় মামলা হয়নি বলে জানা গেছে। এতে করে মাহির রহমান ও তার বন্ধুও গ্রেপ্তার হয়নি। তবে পুলিশ বলছে, অভিযান চলছে। নিহত জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫, নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও জীব বিজ্ঞান পড়াতেন। ওই ছাত্রীর বাবার নাম গিয়াসউদ্দিন। রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে ছাত্রীর বাসার তিনতলায় খুন হন জোবায়েদ। ওই বাসার তিনতলার সিড়ি থেকে নিচতলার সিড়ি পর্যন্ত রক্ত পড়ে ছিল। সেখানে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। এরপর খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন জবির শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করে রাখেন। রাত ১১টার দিকে ছাত্রী বর্ষাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে আটকে রাখে। এদিকে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে খুন হওয়া জোবাইদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয় পুলিশ।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম