আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ এপ্রিল, ২০২৬, 11:01 AM
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সুখবর দিলো ইরান
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচলের ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। তবে শর্ত হলো, নতুন করে সংঘাত এড়াতে একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে হবে। দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ওমান অংশ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে হামলার ঝুঁকি ছাড়াই চলাচলের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান। বুধবার মার্কিন প্রশাসনের বিশেষ বার্তা নিয়ে তেহরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে। এর মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ বিনা বাধায় চলাচলের সুযোগ দেবে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে পাকিস্তান এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। সেই লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করতে বুধবার তেহরান পৌঁছান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি। বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। একইদিন গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তারা। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খরব, আলোচনার টেবিলে তেহরান একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে যা বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তি ফেরাতে পারে। ইরান জানিয়েছে, একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো গেলে হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে বিনা বাধায় চলাচলের সুযোগ দেয়া হবে। তেহরানের একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় একটি প্রস্তাব দিয়েছে—যদি নতুন করে সংঘাত এড়াতে কোনো চুক্তি হয়, তাহলে তারা ওমানের দিক দিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদভাবে চালু রাখতে পারে বলে বিবেচনা করছে। সূত্রটি জানিয়েছে, ইরান সম্ভবত ওমানের জলসীমার দিক দিয়ে জাহাজগুলোকে কোনো বাধা ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দিতে পারে। তবে ইরান ওই এলাকায় পেতে রাখা মাইন সরাবে কি না, কিংবা ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকেও অবাধে চলাচলের অনুমতি দেবে কি না—তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। সূত্রটি আরও জানায়, এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবিগুলো মেনে নিতে প্রস্তুত কি না—এটাই হরমুজ প্রণালী নিয়ে সম্ভাব্য সমাধানের মূল বিষয়। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, এই প্রস্তাব তা নিরসনের প্রথম দৃশ্যমান পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রায় ২০০ জাহাজ এবং হাজার হাজার নাবিক পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন।