আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল, ২০২৬, 11:07 AM
হরমুজ নয়, শুধুমাত্র ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ ঘোষণা, কার্যকর আজ থেকেই
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার থেকেই কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তকে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানোর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পরপরই এই ঘোষণা আসে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বিষয়টি জানানো হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, ১৩ এপ্রিল পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও প্রস্থান করা সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের ওপর এই অবরোধ কার্যকর হবে। এর আওতায় পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরসংলগ্ন ইরানের উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াতকারী সব দেশের জাহাজ থাকবে। তবে সেন্টকম স্পষ্ট করেছে, ইরানের বাইরে অন্য বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হবে না। এতে ধারণা করা হচ্ছে, পুরো প্রণালি অবরোধের আগের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে ওয়াশিংটন। ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আল জাজিরার হেইডি ঝো কাস্ত্রো বলেন, মার্কিন অবস্থানে কিছুটা অসঙ্গতি রয়েছে। কারণ ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা প্রস্থান করা সব জাহাজকে লক্ষ্য করা হবে। কিন্তু সেন্টকম বলছে, অবরোধ সীমিত থাকবে শুধু ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজে। এই ঘোষণার প্রভাব ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজারে পড়েছে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত ইরানের হাতে রয়েছে। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক তেল ও এলএনজি সরবরাহে প্রভাব ফেলছে। এদিকে ইরান নিজেদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রেখেছে এবং সীমিত পরিসরে অন্য দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষে প্রণালিতে টোল ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা করছে তেহরান। মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর পাল্টা কঠোর বার্তা দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস আইআরজিসি। তারা জানিয়েছে, যেকোনো অগ্রসরমান মার্কিন সামরিক জাহাজকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইরানি কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও মার্কিন পক্ষ শর্ত পরিবর্তন করায় আলোচনা ভেস্তে যায়। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরে খারাজমি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই। পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিলে কে টিকতে পারবে, তা খুব দ্রুতই বোঝা যাবে। সূত্র: আল-জাজিরা