হবিগঞ্জে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তি চরমে
নিজস্ব প্রতিনিধি
০১ অক্টোবর, ২০২৬, 11:21 AM
নিজস্ব প্রতিনিধি
০১ অক্টোবর, ২০২৬, 11:21 AM
হবিগঞ্জে চলছে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তি চরমে
হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে চলাচলকারী বাস মৌলভীবাজারে আটক এবং পরিবহন শ্রমিকদের নির্যাতনের প্রতিবাদে হবিগঞ্জে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকা এই ধর্মঘট শুরু হয়। ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর থেকেই জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কসহ দূরপাল্লার সকল যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। এর মধ্যে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী, শিশু ও রোগীরা।
সরেজমিন শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় স্ট্যান্ডে সারি সারি করে বাসগুলো দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঘুরছে না বাসগুলোর চাকা। শুধু বাস নয়, সিএনজি অটোরিকশা, ম্যাক্সিসহ সকল যানবাহনের একই অবস্থা। যানবাহন না চলায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরা। ছোট ছোট যানবাহনে ভেঙে ভেঙে অনেকে জেলা শহরে আসলেও নির্দিষ্ট গন্তব্যে তারা পৌঁছাতে পারবে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে শঙ্কা। যানবাহন না চলায় অনেককে আবার বাড়ি ফিরে যেতেও দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, কয়েক দিন পরপরই এভাবে ধর্মঘট ডেকে আমাদের দুর্ভোগে ফেলা হয়। আমরা সাধারণ যাত্রী, আমাদের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই। বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান হক, এটাই আমরা চাই।
কলেজ ছাত্র রেজাউল জানান, দুপুর একটা থেকে সিলেটে পরীক্ষা। কিন্তু এখন স্ট্যান্ডে এসে দেখি কোনো বাস চলছে না। রহিমা খাতুন বলেন, আমি চিকিৎসার জন্য ঢাকা যেতে এসেছিলাম। এসে দেখি বাস চলছে না। এতে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের চালক ও শ্রমিকদের মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা শেরপুরে আটক করে গাড়ি ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করে আসছেন। এখন তারা আমাদের ৩টি গাড়ি নিজেদের কার্যালয়ের সামনে নিয়ে আটকে রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও তারা সিদ্ধান্ত মানছে না। এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। তিনি বলেন, জেলার কোনো সড়কে কোনো ধরনের গণপরিবহন চলাচল করবে না। বিষয়টি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সঙ্গে মৌলভীবাজার এসএমএম পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা হবিগঞ্জের বাস মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে চলাচলে বাধা দেন। বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের মারধর ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে হবিগঞ্জের ওপর দিয়ে মৌলভীবাজারের কোনো বাস চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়। হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের মালিক ও শ্রমিকরা শায়েস্তাগঞ্জে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপির নেতৃত্বে ৫ জন এমপিসহ প্রশাসনের বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এক সমঝোতা বৈঠকে দু’পক্ষের বিরোধ নিষ্পত্তিও করা হয়। কিন্তু গত ১১ সেপ্টেম্বর ও সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে ৩টি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস মৌলভীবাজারে পৌঁছালে বাসগুলো আটক করা হয়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ।
যদিও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন জানান, আমরা বিষয়টি সমাধানের দিকে এগোচ্ছিলাম। কিন্তু হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ তাদের নিজস্ব লোকজন দিয়ে শ্রীমঙ্গলে আমাদের এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করে। এখন বেশ কয়েকজন শ্রমিক হাসপাতালে আছে। এর মধ্যে একজন আইসিইউতে রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাস আটকে রেখেছে। এ বিষয়ে থানায় মামলাও হয়েছে। এখন বিষয়টি সমাধান করতে হলে সবাইকে নিয়ে বসতে হবে।