নিজস্ব প্রতিনিধি
২৫ নভেম্বর, ২০২৩, 11:03 AM
সড়ক সংস্কারে দুর্নীতি ও অবহেলার অভিযোগ: কমলগঞ্জ শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজারের জনসাধারণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা: মৌলভীবাজার সদর, শ্রীমঙ্গল ও রাজনগরের সাথে সংযোগকারী ৭৬ কিলোমিটার সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৫ বছর পরও এখনো চলাচলের অনুপযোগী। যেন দেখার কেউ নেই,অনেক বাসিন্দা দাবি করেছেন যে, প্রশ্ন সাপেক্ষে তথাকথিত কর্তৃপক্ষ পূর্ববর্তী দুই বছরে প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণের মাত্র ৫০% সম্পন্ন করেছে। ৭৬ কিলোমিটার সড়কের উল্লেখযোগ্য মাত্র ৩৭ কিলোমিটার পুননির্মাণ কাজ ডিসেম্বর ২০১৯ইং এর মধ্যে শেষ হয়েছিল। কোভিড-১৯ মহামারীর পরে, প্রধান ঠিকাদার জানুয়ারী ২০২৩ইং পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করে এবং গত কয়েক মাস ধরে,অস্পষ্ট কারণে বালি,পাথর এবং ইট সহ বিল্ডিং সরবরাহগুলি সড়কের আশ পাশে ফেলে রেখেছে।এর পরে ২০২৩ইং সালের জানুয়ারী পর্যন্ত, ইট দিয়ে গর্তগুলি ভরাট ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল যাত্রীকে অনেক কষ্ট করে অতি সতর্কতার সাথে পথে চলতে দেখা যাচ্ছে। এর ফলসশ্রুতিতে এখানে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বহু মানুষ আহত হয়ে সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেছে। এমনকি অনেকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। সড়কের এই দুরবস্থার কারণে ফসল এবং অন্যান্য পণ্য সঠিক ভাবে স্থানান্তর করতে না পারায় পরিবহন বিলম্বের কারণে পথেই সবজি,ফল ও মাছ পচে গেছে। এছাড়াও এই সড়কে পণ্য পরিবহন খরচ ও অনেক বেশি। সাধারণ মানুষ কিছুতেই বুঝতে পারছেনা। কেন গত ৫ বছর ধরে এত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি এমন বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। অনেক পরিবহন মালিক দাবি করেছে যে ড্রাইভিং করার সময় তাদের গাড়ী প্রায়ই বিকল হয়ে যাচ্ছে , এতে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকার সাথে সংযোগকারী সড়কটি প্রাথমিকভাবে তিনটি উপজেলা,কমলগঞ্জ,শ্রীমঙ্গল এবং মৌলভীবাজার জুড়ে ১৬ টি ইউনিয়নের প্রায় ১ লাখ গন-মানুষ ব্যবহার করেছে। এ বিষয়ে কর্মকর্তারা বলেন, যে ঠিকাদার অন্তবরর্তী সময়ে আরও সময় বাড়ানোর জন্য আবারও আবেদন করছেন। সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেছেন, যে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি ও অবহেলার কারণে এবং অন্যান্য সাব-কন্ট্রাক্টরদের সাথে প্রধান ঠিকাদারদের মধ্যে দ্বন্ধ হওয়ার ফলে সড়কটি মেরামতে বিলম্বিত হচ্ছে। এই সড়কের মূল ঠিকাদার দুইজন উপ-ঠিকদারকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এসব সাবকন্ট্রাক্টর সবাই স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা। বলা হচ্ছে যে, তারা সবাই স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেটচক্র তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় জনগণের চরম দুর্ভোগের বিষয়টি উপেক্ষা করে তারা এই ৫ বছরের সড়কটির নির্মাণ প্রকল্প থেকে বিপুল পরিমান কালো টাকা আয় করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য অনেক পরিবহন কোম্পানির মালিক বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতা বটে। তাই তারা এই অসমাপ্ত ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে স্থানীয় পণ্য পরিবহনের জন্য উচ্চ পরিবহনের খরচ নিচ্ছেন। দুইভাবেই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতারা সুবিধা পাচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় সংসদ সদস্য এই প্রকল্পের সব ভালো-মন্দ জেনেও চোখ বন্ধ করে রয়েছেন বলে স্থানীয় সাধারণ মানুষ গুলো এমনটাই বলছেন। অপরদিকে স্থানীয় সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে তারা। এ দেশের একজন সৎ ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি এই বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি যে বিষয়টি তদন্তের জন্য এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহারের জন্য। আরও অধিকতর তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)কে এ বিষয়টি ভালো ভাবে ক্ষতিয়ে দেখে রিপোর্ট করার জন্য। কোমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারের মানুষের এই চরম দুর্ভোগের জন্য যারা দায়ী তাদের অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া জন্য সড়ক পরিবহন সেতুমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করছে এলাকার স্থানীয় সচেতন মহল।