স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির ঘোষিত সময়সূচি চূড়ান্ত নয়: তথ্য উপদেষ্টা
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 2:05 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, 2:05 PM
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে ইসির ঘোষিত সময়সূচি চূড়ান্ত নয়: তথ্য উপদেষ্টা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। নির্বাচন কমিশন যে সময়সীমা বা টাইমলাইনের কথা জানিয়েছে, সেটিকে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য নির্বাচন আইন দ্বারা নির্ধারিত। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্বাচন কমিশনকে এগোতে হবে।’
স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যে কোনও ‘গ্যাপ’ বা মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটিকে সংঘাত বা মতবিরোধ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি আজ স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে যে কথা বলেছি, আগেও একই কথা বলেছি। এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি ভিন্ন। সেখানে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব দায়িত্ব ও এখতিয়ার রয়েছে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘এগুলো নির্বাচন কমিশনের এক্সক্লুসিভ এখতিয়ার, আমি কখনও এমনটি বলিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আইন দ্বারা নির্ধারিত। আইন যেভাবে দায়িত্ব দেবে, নির্বাচন কমিশন সেভাবেই তা পালন করবে।’
সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে স্থানীয় নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন আইন ভঙ্গ করেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইন ভঙ্গ করেছে। এভাবে আমি বলতে চাই না। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছেও আপনারা ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। তাদের কাছে প্রশ্ন করলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।’
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত টাইমলাইন সরকার মেনে নেবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে, সে বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির বিষয় রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার কখন নির্বাচন করবে, সে বিষয়ে মোটামুটি একটি ধারণা ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। সেটিকে অনুসরণ করেই সরকার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন অবশ্যই হবে। এ নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি নেই।’
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যে তারিখ বা সময়সীমার কথা বলেছে, ঠিক সেই সময়েই নির্বাচন হবেই এমন নয়। আবার হবে না, সেটাও বলা হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকারের বিবেচনার বিষয় রয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে আছে কিনা। এসব বিবেচনার পর আলোচনার মাধ্যমে সময় এগিয়ে বা পিছিয়েও যেতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এটাকে এখনই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে সংঘাত হিসেবে দেখার কোনও কারণ আছে বলে আমি মনে করি না।’
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের একতরফা বিজয়ের উদাহরণ তুলে ধরে এবার বিএনপি একই পথে হাঁটবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনও দল অংশগ্রহণ করছে না। আওয়ামী লীগের সময় প্রধান পদগুলোতে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হতো। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনও দল নির্বাচন করছে না, নির্বাচন করছেন ব্যক্তিরা। ফলে কে কোন দল করেন, সেটি নির্বাচনে সরাসরি কোনও ইস্যু নয়।’
নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং ইতোমধ্যে কোনও কোনও দল সম্ভাব্য প্রার্থীও ঘোষণা করতে শুরু করেছে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হতে বাধ্য। বিভিন্ন দল তাদের সমর্থিত প্রার্থী দেবে। আমরা ইতোমধ্যে একটি নতুন দলকে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করতে দেখেছি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে এ নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি থাকার কথা নয়।’
একই রাজনৈতিক ধারার একাধিক ব্যক্তিও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রতীক না থাকায় স্থানীয় নির্বাচনে বিভিন্ন মাত্রার প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে স্থানীয় নির্বাচনে একই দলের দুই-তিনজনও দাঁড়াতেন, অন্য দলের প্রার্থীও থাকতেন। ফলে একটি সিরিয়াস প্রতিযোগিতার পরিবেশ থাকতো। দলীয় প্রতীক চালুর পর সেই জায়গায় সংকট তৈরি হয়েছিল। আমি আশা করি, এবার আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হবে।’