আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬, 10:58 AM
সৌদি জোটের বিমান হামলায় ইয়েমেনে নিহত বেড়ে ২০
ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা এএফপির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। এসটিসির এক সামরিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় হাদরামাউতের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ২০ জন এসটিসি সদস্য নিহত হন। প্রদেশটির সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল-খাশা ক্যাম্পে সাতটি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে সেয়ুন সামরিক ঘাঁটিতেও প্রাণঘাতী হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওয়াদি হাদরামাউত ও হাদরামাউত মরুভূমি অঞ্চলে এসটিসির প্রধান মোহাম্মদ আবদুল মালিক অভিযোগ করেন, সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো ধারাবাহিকভাবে এসটিসির অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
আল-খাশা ঘাঁটির নিকটবর্তী একটি গ্রামের বাসিন্দা রেয়াদ খামেস বলেন, ‘আমরা শুধু আকাশে আলো ঝলকানি আর একের পর এক বিস্ফোরণ দেখতে পাচ্ছি। চেকপয়েন্টে আঘাত করে পথ পরিষ্কার করা হচ্ছে, যাতে সৌদি সমর্থিত বাহিনী অগ্রসর হতে পারে।’ বিমান হামলার পাশাপাশি হাদরামাউতে স্থলভাগেও ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রদেশটির গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে এসটিসি-সমর্থিত বাহিনী ও ইয়েমেনি সরকারি সেনাদের মধ্যে তীব্র লড়াই হচ্ছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে উভয় পক্ষই নিজেদের প্রভাব বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই শুক্রবার দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময় ঘোষণা করেছে। এ সময় তারা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল শাসন করবে এবং পরবর্তীতে দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতা প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দেয়। উল্লেখ্য, ২০১৪ সাল থেকে গৃহযুদ্ধে জর্জরিত ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করলে ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০১৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।