নিজস্ব প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর, ২০২২, 10:35 AM
সেই ফাতেমাকে দত্তক দিতে চায় স্বজনরা
প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে সড়কেই জন্ম ফাতেমার। জন্মের সময়ই ট্রাকচাপায় বাবা-মা ও বোনকে হারিয়েছে সে। এরপর তার ঠাঁই হয়েছে ঢাকার আজিমপুর শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্র ‘ছোটমনি নিবাসে।’ কিন্তু সেখানে তাকে পর্যাপ্ত সেবা-যত্ন করা হচ্ছে না বলে মনে করে তার স্বজনরা। তাই তাকে কোনো সচ্ছল পরিবারে দত্তক দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দাদা মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ফাতেমা ছোটমনি নিবাসে আশানুরূপ সেবা-যত্ন পাচ্ছে না। কোনো সচ্ছল পরিবার তাকে লালন-পালন করলে সে ভালোভাবে বড় হতে পারবে। শিশুটির দাদা আরও বলেন, ফাতেমা যত্ন পাচ্ছে না। নিয়মিত গোসল করানো হয় না। কোনো রকমে কাপড়-চোপড় পরিয়ে রাখে। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়ছে। দুর্ঘটনায় ডান হাতের হাড় ভেঙে গিয়েছিল, তা এখনও ঠিক হয়নি। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
ফাতেমাকে সবসময় বিছানায় রেখে দেয়। কোলে নেয় না কেউ। যেখানে প্রস্রাব-পায়খানা করে, সেখানেই খাওয়ানো হয়। ওর দাদি বলেছে ওকে আর সেখানে রাখব না। আর্থিক অনটনের বিষয়টি জানিয়ে তিনি বলেন, ফাতেমার আরও দুটো ভাই-বোন আছে। তাদের ভরণপোষণ ও লেখাপড়ার বিষয়টিও দেখতে হচ্ছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কেউ আমাদের সঙ্গে আত্মীয়তার মতো সম্পর্ক রেখে বাচ্চাটা নিতে চাইলে দেব। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন আজিমপুর ছোটমনি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জুবলি বেগম রানু। তিনি বলেন, নিবাসে ফাতেমাসহ ২৯টি শিশুর সবাই সুস্থ ও ভালো আছে। তবে অভিভাবক যদি ফাতেমাকে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেন, তাহলে ডিজি (সমাজ সেবা অধিদপ্তর) আছেন এবং শিশু কল্যাণ বোর্ড আছে; তারা বিষয়টি দেখবেন। জুবলি বেগম আরও বলেন, পরিবারের চেয়ে প্রতিষ্ঠান বড় হতে পারে না। পরিবারের স্নেহ-ভালোবাসার ব্যাপারটি আলাদা। ফাতেমাকে যদি দেশের বাইরে দত্তক নেওয়া হতো, তাহলে ভবিষ্যতে সে ভাই-বোনদেরকেও হেল্প করতে পারত। প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কোর্ট ভবন এলাকায় ট্রাকচাপায় রায়মনি গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম (৪২), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রত্না বেগম (৩২) ও তাদের মেয়ে সানজিদা (৬) নিহত হয়। ওই সময় রত্না বেগম সড়কেই সন্তানের জন্ম দেন। বাবা-মা ও বোন মারা গেলেও সেই দুর্ঘটনায় ফাতেমা বেঁচে যায়।