নিজস্ব প্রতিবেদক
০৮ এপ্রিল, ২০২৬, 1:20 PM
সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিট করাসহ যেসব প্রস্তাব দিলো ব্যবসায়ীরা
শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনা, রপ্তানি খাতকে সহায়তা দিতে রিজার্ভ থেকে ইডিএফের আকার বাড়ানো এবং ব্যবসার জন্য ঋণপ্রবাহ সহজ করা, ডলারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) একটি প্রতিনিধিদল। এ বৈঠকে এসব প্রস্তাব দেন তারা। এ সয়ম তারা নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মো. মোস্তাকুর রহমানকে দেশের ব্যবসায়ী সমাজের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। এফবিসিসিআই প্রশাসক বলেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে দেশীয় ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বাস্তবসম্মত মুদ্রানীতি প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে ব্যবসায়ী মহল প্রত্যাশা করছে। তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সুদের হার স্থিতিশীল রাখা জরুরি। যদিও সুদের হার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়, তবে আর্থিক খাত, রাজস্ব নীতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বয় ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ কারণে ধাপে ধাপে সুদের হার কমিয়ে সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে এফবিসিসিআই নেতারা বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানো, অনাদায়ী বা খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনা এবং বিদেশগামী কর্মীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেন তারা। এ ছাড়া গ্রাহক ঋণসীমা (সিঙ্গেল বোরোয়ার এক্সপোজার) বাড়ানো এবং অবাধ রেমিট্যান্স প্রবাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন শিল্প ও সেবা খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রণোদনা ও নীতিগত সহায়তা দিয়েছে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান এফবিসিসিআই প্রশাসক। এ সময় এফবিসিসিআই মহাসচিব মো. আলমগীর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতের ব্যাংকিং সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের আহ্বান জানান। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করে এফবিসিসিআই। ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলে ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ-এর সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এর সাবেক সভাপতি এস এম ফজলুল হক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-এর সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম সরকার, বিজিএমইএ এর পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, এফবিসিসিআিইর সাবেক পরিচালক গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সভাপতি মোহাম্মাদ হাতেম, বারভিডার সভাপতি মো. আবদুল হক, উইমেন অ্যাসোসিয়েশন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ওয়েব) এর সভাপতি নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ জুয়েলারি অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন, বাংলাদেশ সিএনজি মেশিনারিজ অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়ন, বাংলাদেশ সুপার মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রমুখ। বৈঠকে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা নিজ নিজ খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা কামনা করেন।