আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৪ এপ্রিল, ২০২৬, 11:11 AM
সুদানে হাসপাতালে ড্রোন হামলায় নিহত ১০
সুদানের একটি হাসপাতালে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের হোয়াইট নাইল অঙ্গরাজ্যের আল জাবালাইন হাসপাতালে হামলার ঘটনাটি ঘটে। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদআউট বর্ডারস (এমএসএফ) শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ হামলা নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতে বলেছে, হামলায় দুটি ড্রোন আঘাত হানে—একটি অপারেশন থিয়েটার এবং অন্যটি মাতৃত্বকালীন ওয়ার্ডে। সংস্থাটির দাবি, এই হামলা ‘সম্ভবত’ দেশটির আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) চালিয়েছে। সুদানে এমএসএফ-এর জরুরি বিভাগের প্রধান এস্পেরাঞ্জা সান্তোস বলেন, ‘এই অগ্রহণযোগ্য হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন চিকিৎসাকর্মী—যাদের কেউ কেউ আগে এমএসএফ-এর সঙ্গে কাজ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চলাকালে এই হামলা হওয়ায় ঘটনাটি আরও মর্মান্তিক। নিহতদের পরিবারের প্রতি, বিশেষ করে আমাদের সাবেক সহকর্মীদের প্রতি, আমাদের গভীর সমবেদনা। ’ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এই হামলাটি স্বাস্থ্যখাতের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই দিনে, হোয়াইট নাইল প্রদেশের রাজধানী রাবাকে একটি মেডিকেল সরঞ্জাম গুদামেও হামলা চালানো হয়। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, মার্চ মাস থেকে বিভিন্ন প্রদেশ—দক্ষিণ কোরদোফান, ব্লু নাইল, পূর্ব, মধ্য ও দক্ষিণ দারফুরে—ড্রোন হামলার পুনরাবৃত্তির ফলে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানায়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি হামলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। গত মাসেই দারফুর অঞ্চলের একটি হাসপাতালে হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হন, যার মধ্যে অন্তত ১৩ জন শিশু ছিল। এদিকে, সুদানের সংস্কৃতি, তথ্য ও পর্যটনমন্ত্রী খালিদ আলেইসির এই হামলার নিন্দা জানিয়ে আরএসএফ-কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। সূত্র: আলজাজিরা