আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০১ নভেম্বর, ২০২৫, 11:20 AM
সুদানের রাস্তায় শত শত মরদেহ, পালিয়েছে ৬০ হাজার বাসিন্দা
সুদানের দারফুর অঞ্চলের এল-ফাশের শহর দখলের পর ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। গত সপ্তাহান্তে আধাসামরিক সংগঠন র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরটি দখল করে নেয়। ১৮ মাসের অবরোধ, অনাহার ও গোলাবর্ষণের পর শহরটিতে প্রবেশ করে আরএসএফ যোদ্ধারা। তাদের দখলের পর গণহত্যা, ধর্ষণ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বহু অভিযোগ উঠেছে। ইউএনএইচসিআর-এর মুখপাত্র ইউজিন বিয়ুন বিবিসিকে জানান, এল-ফাশের থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত তাওইলা শহরের দিকে আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল নেমেছে। পালিয়ে আসা মানুষদের কাছ থেকে ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে, যার মধ্যে ধর্ষণের ঘটনাও রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয় ও খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছি। প্রায় প্রতিটি শিশুই অপুষ্টিতে ভুগছে।’ জাতিসংঘের হিসেবে, এখনো প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এল-ফাশের শহরে আটকা রয়েছে। এটি ছিল সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন দারফুরের শেষ ঘাঁটি। আরএসএফ দাবি করেছে, তারা জাতিগত কারণে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে না। তবে সংগঠনটি তাদের এক সদস্য, আবু লুলুকে গ্রেপ্তার করেছে, যাকে নিরস্ত্র বেসামরিকদের হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিবিসির অনুসন্ধানে দেখা যায়, ওই লুলু এল-ফাশেরের কাছে একাধিক মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছিল। পরে আরএসএফ তার গ্রেপ্তারের ভিডিও প্রকাশ করে। টিকটক জানিয়েছে, লুলুর নামে থাকা অ্যাকাউন্টটি তারা নিষিদ্ধ করেছে। তবে অ্যাকাউন্টটি তার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ২০২৩ সালের এপ্রিলে সেনাবাহিনী ও আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে দেশজুড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে এবং দারফুরে গণহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। জাতিসংঘ এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এল-ফাশের দখল নেওয়ার পর দেশটি কার্যত ভৌগোলিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে— পশ্চিম সুদান ও দক্ষিণের কোরদোফান অঞ্চলের বেশিরভাগ এখন আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে, আর সেনাবাহিনী রাজধানী খার্তুমসহ মধ্য ও পূর্বাঞ্চল ধরে রেখেছে। সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফ ২০২১ সালে একসঙ্গে ক্ষমতা দখল করেছিল, তবে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠার আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ঘিরে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে পড়ে। সূত্র:বিবিসি