ঢাকা ১৬ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
একদিনে দুই শক্তিশালী ভূমিকম্প, ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭ মন্ত্রিসভায় রদবদলের গুঞ্জন, আলোচনায় সিনিয়র নেতা ও টেকনোক্র্যাট জ্বালানি সংকট থেকে বের হতে দুই বছর সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন কাটছাঁটের শঙ্কা হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৮ শিশুর মৃত্যু শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী ডারউইন টেস্ট: ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ দাম কমার পরদিনই স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ল ২১৫৮ টাকা কালিয়াকৈরে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার যেভাবে গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী হয়ে ওঠেন খালেদা জিয়া

সুগন্ধায় লঞ্চে অগ্নিকাণ্ড: স্বামীর মৃত্যুর খবর জানেন না দগ্ধ স্ত্রী-মেয়ে

#

নিজস্ব প্রতিনিধি

২৯ ডিসেম্বর, ২০২১,  1:23 PM

news image

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক। পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা দাখিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি। এলাকাবাসী তাকে রাজ্জাক মাস্টার নামেই চেনেন। অনেকদিন ধরে শারীরিক নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন তার স্ত্রী হনুফা বেগম। তাই তার চিকিৎসার জন্য বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থী মেয়ে রুবি আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন রাজ্জাক মাস্টার। ১০ দিন ঢাকায় থেকে স্ত্রীর চিকিৎসা করিয়ে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান-১০ লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। গভীর রাতে সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর মা-মেয়েকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বরিশালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়।তবে স্বজনরা কোথাও রাজ্জাককে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। পরে বিকালে উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে থেকে রাজ্জাকের মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। হনুফা বেগমের বোনের ছেলে শফিকুল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালা অসুস্থ ছিল। তাই চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যান খালু ও খালাতো বোন। গত বৃহস্পতিবার ৩ জনই বরগুনাগামী লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সব শেষ। অগ্নিকাণ্ডে খালার দুই হাত ও পা আর বোনের শরীরের প্রায় অংশই পুড়ে গেছে। তারা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর খালু চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার লাশ শনাক্ত করে দাফন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত খালা ও বোনকে খালুর মৃত্যুর খবর জানাইনি। রাজ্জাক মাস্টারের স্ত্রী হনুফা বেগম স্বজনদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ লঞ্চে ধোঁয়া আর আগুন দেখে ছোটাছুটি শুরু করে যাত্রীরা। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। আমরাও ছুটছি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের শরীরে আগুন লেগে যায়। নদীতে ঝঁাঁপ দেয়ার জন্য আমার স্বামী আমাকে ও মেয়েকে লঞ্চের সামনের দিকে ঠেলে দেয়। এরপর আর কিছু মনে নেই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমরা মা-মেয়ে হাসপাতালে। কিন্তু কোথাও আমার স্বামী নেই। সূত্র: মানবজমিন 


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম