নিজস্ব প্রতিনিধি
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, 4:20 PM
সাগরে মাছ না পেয়ে হতাশ জেলেরা
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কাটিয়ে সাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফিরছে একের পর এক মাছ ধরার ট্রলার। কিন্তু মেলেনি কাঙ্খিত ইলিশ। সব মিলিয়ে চলমান বৈরী আবহাওয়ায় নাকাল জেলেরা। হতাশ জেলেরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি থাকায় যে মাছ পাওয়া গেছে তা বিক্রি করে তাদের খরচ উঠবে না। আর মৎস্য বিভাগ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মাছের সংখ্যা কম। তবে সামনে মাছ বাড়বে। বরগুনার জেলেরা জানান, গেল তিন সপ্তাহ সাগরে যেতে পারেনি জেলেরা। বৈরী আবহাওয়া কাটিয়ে সপ্তাহখানেক আগে সাগরে গেলেও আবারও বৈরী আবহাওয়া দেখে ফিরে আসতে হয়েছে তাদের।
ফিরে আসা জেলেরা বলেন, এখন আর আগের মতো সাগরে জাল ফেলেও কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মেলে না। তার উপর প্রতিনিয়ত বৈরী আবহাওয়া তো আছেই। তাই কোন জেলের মুখেই নেই হাসি। বরগুনা সদরের জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়ে গেছে। আর এর আগে যে পরিমাণ মাছ পেতাম এখন আর সেই পরিমান মাছ পাওয়া যায় না। পাথরঘাটার জেলে মো. হাবিব বলেন, বর্তমানে যে খরচ হচ্ছে মাছ বিক্রি করেও তা তোলা সম্ভব হচ্ছে না। তার উপর বৈরী আবহাওয়া ও বন বিভাগের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ উপকূলের জেলেরা। নাম না প্রকাশের শর্তে পাথরঘাটার পদ্মা এলাকার বেশ কয়েকজন জেলে অভিযোগ করেন, বৈরী আবহাওয়ায় সুন্দরবনে আশ্রয় নিতে গেলে বন বিভাগ ও এর স্মার্ট বাহিনীর কাছে চাঁদাবাজির শিকার হতে হয় জেলেদের। এবিষয়ে তদন্ত করে দ্রুত এটি বন্ধ করার দাবী জানান জেলেরা। তালতলীর জেলে ইদ্রিস বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছের সংখ্যা খুবই কম। তার উপর সাগরে লঘুচাপ লেগেই আছে। এতে সাগরে জাল ফেলতে পারি না। তার আগেই কূলে উঠে আসতে হয়। এই আসা যাওয়ায় আমরা লসে আছি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, গভীর সমুদ্রে মাছ আছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদ নদীতে মাছের সংখ্যা কমছে। তিনি আরো জানান, চাঁদাবাজির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।