ঢাকা ১৯ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের জালে এলজিআরডি'র সাবেক মহাপরিচালক ওমর ফারুক হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর প্রাণহানি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হবে: সিইসি একনেকে ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে: রিজভী হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৮২ শতাংশ পর্যাপ্ত বুকের দুধ পায়নি ভূমি অফিস মনিটরিংয়ে ডিসিদের ১৪ নির্দেশনা স্বামীর মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন দীপু মনির নড়াইলে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ৫ জনের পরিচয় শনাক্ত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের জালে এলজিআরডি'র সাবেক মহাপরিচালক ওমর ফারুক

#

১৯ আগস্ট, ২০২৬,  8:06 PM

news image

>স্বৈরাচারের দোসর হয়ে গড়েছেন কোটি কোটি টাকার সম্পদ 

>দুর্নীতি এবং নারী ঘটিত কেলেঙ্কারির অভিযোগ মাথায়নিয়ে
  পদোন্নতির জোর তদবির ওমর ফারুকের 


উজ্জল হোসেন : পতিত স্বৈরাচারী সরকারের অন্যতম দোসর এসএফসি ওয়ার্কস এর সদ্য বরখাস্তকৃত সিনিয়র ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার এবং এলজিআরডির সাবেক মহাপরিচালক শেখ মোঃ  ওমর ফারুক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। ভুয়া বিল-ভাউচার, টেন্ডারবাজি এবং অদৃশ্য সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার লুটের অভিযোগে বিভিন্ন দপ্তরে অনুসন্ধান ও আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। আর এ ধরনের গুরতর অপরাধের সাথে সক্রিয় থেকে পরিশেষে দুদকের জালে জড়িয়ে পড়েছেন। পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ কম মোজাম্মেল হকের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়ার পরেও পদোন্নতি নিতে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য সাবেক মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ কম মোজাম্মেল হক ওমর ফারুকের বউয়ের মামা। এই মামাশ্বশুর কে দিয়ে  ওমর ফারুকের শ্বশুরকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারও সনদ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া এই সনদ পাইয়ে দেয়ার নাম করে ওমর ফারুক অনেকের নিকট হতে ব্যাপক পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। চাকুরী জীবনে বিভিন্ন অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও নিজের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এলজিআরডির অডিট অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ৪২ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুদক এই অনুসন্ধান শুরু করেছে। মোহাম্মদ ওমর ফারুকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও আর্থিক তথ্য খতিয়ে দেখতে ৬১ ব্যাংক ও তিন জেলায় চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হক। চিঠিতে বলা হয়, ওমর ফারুক চাকরিতে থাকাকালীন ২০ লাখ টাকা করে ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে এলজিআরডি বিভিন্ন ইউনিটের অডিট টিম নিয়োগ দিতেন। মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে এলজিআরডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে  তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সাবেক এমপিদের লুটপাটের প্রকল্পের অডিট আপত্তি, ফাইল আটকিয়ে অর্থ গ্রহণসহ বিস্তর দুর্নীতির ফিরিস্তি জমা হয়েছে দুদকে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে স্ত্রী, সন্তানসহ ওমর ফারুকের আর্থিক বিষয়ে জানতে দেশের বিভিন্ন জেলায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে দুদককে অনুসন্ধান চলমান সত্ত্বেও কোটি কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে পদোন্নতি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন ওমর ফারুক। অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুকের গ্রামঃ বড়হালিয়া, পোস্টঃ কুটিরহাট থানাঃ সোনাগাজী জেলা ফেনী। পিতা মরহুম শেখ সুলতান আহমেদ। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে ওমর ফারুক সবার থেকে বড়। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্ম গ্রহণ করলেও বিসিএস ১৮তম ব্যাচে অডিট এন্ড একাউন্টস বিভাগে যোগদান করার পর থেকেই তার পরিবার এলাকার বিশিষ্ট ধনী পরিবারে পরিণত হয়েছে। শেখ মোঃ ওমর ফারুক এর বাবা মরহুম শেখ সুলতান আহমেদ ছিলেন সোনাগাজী উপজেলার কুটিরহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। শেখ মোঃ ওমর ফারুক বিগত ফ্যাসিস্টের ১৭ বছর আওয়ামী লীগের পরিচয়ে পরিচিত হয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরে তিনি নিজেকে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে জাহির করার চেষ্টায় আছেন। তাঁর কর্ম জীবনের বিভিন্ন দপ্তর মারফত জানা যায়, তিনি যেখানেই দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানেই তিনি ব্যাপক অনিয়মের সাথে জড়িয়ে  সমালোচিত ছিলেন এবং বিভিন্ন নারী সহকর্মীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকতেন। দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে এপ্রিল মাসে ওমর ফারুক সিএজি অফিসে রিজার্ভ থাকা অবস্থায় তার  দুই মহিলা সহকর্মীকে নানাভাবে হেনস্থা করতো। ১৮ তম ব্যাচের ট্রেনিংরত অবস্থায় ওমর ফারুক  ওই দুই মহিলা সহকর্মীর পেছনে  লেগেছিলেন। ২০১৫ সালের আগস্ট মাসে ওমর ফারুক জেএফসি নেভী থাকা অবস্থায় তারই পিয়ন তাসলিমা রিমুর সাথে দৈহিক মিলনরত অবস্থায় বাথরুমে ধরা পড়ে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে তৎকালীন নৌ-বাহিনী প্রধান সিএজি মাসুদ আহমেদের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়। ওমর ফারুক যে সকল অফিসে চাকুরী করেছেন সেই সকল অফিসের মেয়ে পিয়ন থেকে শুরু করে ক্যাডার কেউ  রেহাই পায়নি এই হায়ানার হাত থেকে। গ্রেড-৩ তে প্রমোশন পাওয়ার পর সে আরোও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মহাপরিচালক হিসেবে আর্থিক ও উপযোজন হিসাব অধিদপ্তরের পোস্টিং পাওয়ার এক মাসের মধ্যে ১০ ব্যাচের আরেক মহাপরিচালক আজিজুল ইসলামকে ঘুসি মারার অপরাধে ওমর ফারুককে শাস্তি  হিসেবে ওএসডি করা হয়। তৎকালীন সিনিয়র মাহবুবুল আলম এর কাছে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে পুনরায় সামাজিক নিরাপত্তা অডিট অধিদপ্তরে পোস্টিং পায়। তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ অফিস হওয়া সত্ত্বেও সেখানে সে অবৈধভাবে আত্মীয়দের ভিজিএফ এর টাকা প্রদান, মুক্তিযোদ্ধার নকল সার্টিফিকেট বানানো, তার ভাইকে দিয়ে খাদ্য অধিদপ্তরে অবৈধ টেন্ডার কার্যক্রম করেছেন। তিনি আরো ব্যাপক বেপরোয়া হয়ে ওঠেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন অডিট অধিদপ্তরে যোগদানের পর। প্রতিটি অডিট দল গঠন থেকে ২০ লক্ষ টাকা নেওয়া কোন অডিট প্রতিষ্ঠান অডিট থেকে বাদ দেওয়ার বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ অডিট আপত্তি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিষ্পত্তি করা তার নিয়মিত কাজ হয়ে ওঠে। ট্যাপওয়ারের ইঞ্জিনিয়ার মিস রুপাও তার কুনজর থেকে রেহাই পায়নি। অভিযোগ দিয়ে চাকুরীচ্যুতির ভয় দেখিয়ে রুপাকে তাঁর অফিস রুমে নিয়ে শারীরিক সম্পর্ক লিপ্ত থাকতো। এই রুপাকে নিয়ে ২০২৩ সালে ওমর ফারুক কক্সবাজার ভ্রমণ করেছেন। ৩০ জুলাই ২০২৩ সালে ওমর ফারুক  তার পুরনো লালসা মিটানোর জন্য এসএফসি নেভির সেই মেয়ে  তাসলিমা রিমুকে নিয়ে ডে লং ভাড়ায় হোটেল সারিনায় থেকেছেন। ২০১৫ সালের শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুক সিএএফও, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা থাকা অবস্থায় সেই ডিপার্টমেন্টের কাছে মিস্টার ৫% হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। বৈধ কিংবা অবৈধ যেকোনো ধরনের বিলই আসুক না কেন ওমর ফারুককে ৫% ঘুষ দিয়ে বিল পাস করাতে হতো। ২০১৬ সালে পেনশন ফান্ড ম্যানেজমেন্ট এ পোস্টিং থাকা অবস্থায় বয়স্ক পেনশনারদের নিকট হতে অমানবিকভাবে টাকা নিতেন। ২০১৮ সালের ওমর ফারুক সিএএফও, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো টুরের টাকা অগ্রিম পাস করতেন না। ফারুককে সেই ট্যুরের  সফর সঙ্গী করতে হতো।এ সকল অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ২০১৯ সালে ঢাকার বাইরে রেলওয়ে, রাজশাহীতে বদলি করেন কিন্তু আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী  এমপি জয়নাল হাজারীকে দিয়ে তদবির করে সেই বদলী স্থগিত করেন। শেখ মোহাম্মদ ওমর ফারুক বর্তমানে এসএফসি ওয়ার্কস এ কর্মরত।  সেখানেও  সেই ঘুষ থেকে পিছপা হয়নি। প্রতিনিয়ত বিল শাখা হতে ঘুষ নেওয়ার উদ্দেশ্যে হঠাৎ হঠাৎ বদলি করে থাকতেন তাঁর অধিনস্থ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের। যে তাকে মোটা অংকের টাকা দিতে পারতেন তাকে সে বিল শাখায় পোস্টিং দিয়ে থাকতেন। তার নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি গাড়ি রয়েছে ঢাকা মেট্রো গ-৩৯-২৭৭১ যা অত্র অফিসে ভাড়া দেখিয়ে প্রতি মাসে ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা ভাগিয়ে নিয়েছেন।কিন্তু ঢাকা মেট্রো গ-২৬-৮২২২ নামের একটি গাড়িকেও ভাড়া হিসেবে দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন। শেখ মোঃ ওমর ফারুক এসএফসি ওয়ার্কস এ বিল শাখার একাউন্টস অফিসার মশিউর রহমান সোহেলের মাধ্যমে ব্যাপক ঘুষ বাণিজ্য চালিয়েছেন। পূর্বে প্রতিটি গ্যারিসন অফিসে বিল পাস করা হতো কিন্তু ওমর ফারুক বিএনপি ও  বর্তমান সেনাপ্রধানের আত্মীয় পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে সিজিডিএফ শামসুর রহমানকে দিয়ে গ্যারিসনের সকল বিল ঢাকা অফিসে নিয়ে আসেন। গত জুন মাসে এরকম দুটি বিল  একটি ৩০ কোটি এবং আরেকটি ৪০ কোটি টাকা থেকে ৭০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়েছেন তিনি। এ কাজে সহযোগিতা করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলা সাবেক ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বর্তমানে তার অফিসের অডিটর মামুন মিয়া। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন অডিট অধিদপ্তর ও এসএফসি ওয়ার্কস এর অফিস ইন্টেরিয়রের নামে ওমর ফারুকের ভাই দিদার কে দিয়ে নগদ লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। মিল্ক ভিটার সাবেক এমডি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার চাচা শেখ লিপুকেও  ওমর ফারুক মামা বলে সম্বোধন করত। একাধিকবার শেখ লিপুর বাসায় ওমর ফারুক সপরিবারে গিয়েছেন। মিল্ক ভিটা  স্থানীয় সরকার অডিটের অডিটি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সেখানে ওমর ফারুক অডিট করাতো না। শেখ মোঃ ওমর ফারুক ২০১১ সালের রিয়াদ, সৌদি আরব ও ব্রাসেলস বেলজিয়াম, ২০১৫ সালের টোকিও, জাপান ও শিলিগুড়ি ভারত, ২০১৭ সালে  নিউইয়র্ক,আমেরিকা  ও হ্যানয়,  ভিয়েতনাম ২০১৯ সালের মরিশাস ও লন্ডন ২০২১ সালে বার্মিংহাম ২০২৪ সালে কুয়ালালামপুর, মালয়েশিয়া ভ্রমণ করেন। বাংলাদেশে আলোচিত কূটনৈতিক সাইদা তাসনিম মুনা লন্ডনের হাইকমিশনার ছিল। ফ্যাসিস্ট সরকারের বড় সহযোগী ও অর্থ পাচারের হোতা ছিলেন এই মুনা। ওমর ফারুকের খুবই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী ছিলেন এই মুনা। ২০১৭ সালে ওমর ফারুক ভিয়েতনাম অডিটের সময় মুনা ছিল মিশন প্রধান। তখন থেকেই মনার সাথে মিলে ওমর ফারুক অর্থ পাচার করে আসছেন সর্বশেষ ২০১৯ সালে ওমর ফারুক যখন লন্ডন মিশন অডিট করতে যায় তখন মুনা ছিল সেখানকার হাই কমিশনার। মুনা ও ওমর ফারুক মিলে সে সময় প্রায় ৭৫০০০০ হাজার ডলার লন্ডনে পাচার করে। যার সঠিক তদন্ত করলে বের হয়ে আসবে। ব্যক্তি জীবনে ওমর ফারুক ছিলেন কলুষিত এবং কলঙ্কিত। শেখ মোঃ ওমর ফারুকের প্রথম বিয়ে হয় তার মামাতো বোনের সাথে অবৈধ দৈহিক মিলনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার সময় তাদের বিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ওমর ফারুকের চারিত্রিক অবক্ষয়ের কারণে সে বউ তাকে ছেড়ে যায়। সে সংসারে একজন ১৭ বছরের মেয়ে আছে।ওমর ফারুকের দ্বিতীয় বিয়ে হয় মির্জা আজিজুলের আত্মীয়র সাথে। কিন্তু চারিত্রিক  অবক্ষয়ের কারণে তার  সেই বউও তাকে ছেড়ে চলে যায়। এরপর ওমর ফারুক তৃতীয় বিয়ে করে পূরবীকে । এ বিয়েও একটি কলঙ্কজনক ঘটনার প্রেক্ষিত হয়েছে। পূরবীর আগের স্বামী কানাডিয়ান প্রবাসীর বন্ধু ছিল শেখ মোঃ ওমর ফারুক। সেই সুবাদে পূরবীর সাথে ওমরর ফারুকের পরিচয় ছিল। তাছাড়া লায়ন ক্লাবের মেম্বার হওয়ায় পূরবী ও ওমর ফারুকের বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে লায়ন ক্লাবের হয়ে নৌকা ভ্রমণে যায়। কিন্তু লঞ্চের কেবিনে ওমর ফারুক ও পূরবীকে আপত্তিজনক অবস্থায় ধরা হয়। সেই বিষয়টা শেষ পর্যন্ত বিয়েতে গড়ায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ এক আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওমর ফারুকের এক ভাই বুলু নিউইয়র্ক এর ব্রকলিনে ১১৮ নং নিউ স্টেটে থাকেন আর অন্য ভাই দিদার ওমর ফারুকের অফিসের দালালীর কাজ করে। একমাত্র বোন শেফালী। ওমর ফারুক বর্তমানে গুলশানের সাত হাজার স্কয়ার ফিট একটি বাড়িতে থাকে। বাড়ির নং ৩/বি, রোড নং ৫৮, গুলশান-২ ঢাকা। এছারাও  তিনি বলেন, ওমর ফারুকের ঢাকায় গুলশান একটি বিশাল বাড়ি রয়েছে। গ্রামঃ বড়হালিয়া পোস্টঃ কুটিরহাট থানাঃ সোনাগাজী জেলাঃ ফেনীতে শত বিঘার উপর জমি ক্রয় করেছেন। নিউইয়র্কে তার ভাইয়ের মাধ্যমে ডলার পাচার করে সেখানে বাড়ি কিনেছেন। ওমর ফারুক এর ভাই দিদারের নামেও কোটি কোটি টাকা সম্পদ কিনেছেন। বিভিন্ন দুর্নীতি, অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দুদকের অনুসন্ধান, এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে মতামত জানতে প্রথমবার গত ১৮/০৮/২০২৬ ইং তারিখ এলজিআরডির সাবেক মহাপরিচালক শেখ মোঃ  ওমর ফারুকের ব্যক্তিগত মুঠোফোন  (০১৭১৩০৮২৩৪৩) এই নাম্বারে বিকেল ৫:২৫ ঘটিকায় কল দিলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কোন মতামত প্রদান না করে প্রতিবেদককে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি এবং আপত্তিকর মন্তব্য প্রদান করেন। চলবে  


logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম