NL24 News
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, 10:45 PM
সংরক্ষিত আসনের মনোনয়ন কিনেছেন এডভোকেট রাশিদা চৌধুরী নিলু
নিজস্ব প্রতিনিধি: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন কিনেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সর্বোচ্চ বিভাগ আপীল ডিভিশনের আইনজীবী রাসিদা চৌধুরী নিলু। রাশিদা চৌধুরী নীলু এর জন্ম-নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ থানাধীন চৌমুহনী পৌরসভায়। রাজনৈতিক পরিবারের মাঝেই বেড়ে উঠা। নানা বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য নুরুজ্জামান (কালু মিয়া) চৌমুহনী পৌরসভার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। নানার ছোট ভাই ফখরুল ইসলাম (এম.এ) বেগমগঞ্জ উপজেলার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। রাশিদা চৌধুরী নীলু বাবা-মায়ের বড় সন্তান। মেজো বোন ডাক্তার এবং ছোট বোন এমবিএ শেষ করে অঅষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী । রাশিদা চৌধুরী নীলু আইন বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ এবং হাই কোর্ট বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক পরিবারের মাঝে বেড়ে উঠাই তার রাজনীতিতে আসার প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে সবসময়। মা খালেদা আক্তার মঞ্জু চৌমুহনী সরকারি এস. এ. কলেজে ১৯৭৯ সালে ছাত্র সংসদে নির্বাচিত মহিলা সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার মামা কামরুজ্জামান মাইকেল চৌমুহনী সরকারি এস.এ. কলেজে ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে পরিবারের সবাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতা পরবর্তীকালীন সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী রাজনীতি সম্পৃক্ততায় তার পরিবারের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। '৭৫ পরবর্তী কালীন সময়ে পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আহাম্মদিয়া লাইব্রেরীকে বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার আওয়ামী লীগ অফিস হিসেবে ব্যবহার করে দলকে নিবিড় ভাবে সহযোগিতা করেন। এ ছাড়া যে কোনো নির্বাচনে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার পরিবারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। ছাত্রজীবনে রাশিদা চৌধুরী নীলু ছাত্রলীগের রাজনীতি করার পাশাপাশি "উত্তরাধিকার- ৭১" এর সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ছাত্র শিক্ষক মুক্তি আন্দোলন ব্যানারে ১/১১ জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি লাভে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন, প্রথম জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করে তারাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সামনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে ঘৃণাস্তম্ভ করেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্দিনের অংশীদার হিসেবে তিনি নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
রাশিদা চৌধুরী নীলু'ই প্রথম ঢাকা জজ কোর্টে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য ধারায় মামলা করেন। ছাত্রজীবন থেকে নোয়াখালী জেলার প্রতিভাবান বিতার্কিক ও আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে বেশ পরিচিতি পান। তিনি নোয়াখালী জেলা থেকে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক নির্বাচিত হয় ১৯৯৯, ২০০০ সালে। এছাড়াও আবৃত্তি শিল্পী হিসেবে বিভিন্ন পদক ও স্বীকৃতি স্মারক সম্মাননা হিসেবে পায়। তার দুটি আবৃত্তি আ্যালবাম "আবৃত্তি মেলা" থেকে প্রকাশিত হয়।এছাড়াও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিখ্যাত কবিদের লেখা কবিতাগুচ্ছ নিয়ে নির্মিত আ্যালবাম "তোমারই পদধ্বনি" ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এটাই বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বে প্রথম আবৃত্তি এ্যালবাম। ব্যক্তিগত জীবনে ২০১০ সালে তিনি আব্দুল্লাহ আল হারুন রাসেলের সাথে সংসার জীবন শুরু করেন। তার স্বামী আব্দুল্লাহ আল হারুন রাসেল একজন আইনজীবী এবং ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য।
কলামিস্ট 'গেদু চাচা' খ্যাত খন্দকার মোজাম্মেল হক তার মামা শ্বশুর। রাশিদা চৌধুরী নীলু'র শ্বশুর আব্দুল হাই ভুঁইয়া ফেনী সরকারী কলেজের এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার শ্বশুর নিজ অর্থায়নে নিজস্ব পারিবারিক জমির উপর একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি হাই স্কুল, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক, একটি মসজিদ, রাস্তা-ব্রীজ তৈরী করেন। তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সবাই রাজনীতির সাথে সক্রিয় ভাবে সম্পৃক্ত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে তাদের পরিবার ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার স্বীকার হয়। মেধাবীরা এগিয়ে না আসলে তো দেশকে ভুল মানুষ নেতৃত্ব দেবে বলে রাশিদা চৌধুরী নীলু মনে করেন। তিনি বলেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথ ধরে তাই দেশের স্বার্থে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে তরুণদের, বিশেষকরে নারীদের। রাশিদা চৌধুরী নীলু একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন ও বিধি উপ কমিটি, লিগ্যাল এসিস্ট্যান্স উপ-কমিটি, পর্যবেক্ষক পর্যবেক্ষণ উপ-কমিটি, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ (নোয়াখালী-৩) এবং নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয়ক,(চট্রগ্রাম বিভাগ) সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেন। এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন সহায়তা কমিটিতে কাজ করেন। তিনি মনে করেন প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বিশ্বাস ও আস্থা রেখে যা সিদ্ধান্ত দেবেন, তাই তার আগামীর পথচলার অনুপ্রেরণা। তিনি সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।