ঢাকা ০১ মার্চ, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ইরানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত বেড়ে ১৪৮ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অর্থমন্ত্রী রিজিকের সঙ্গে শেষ দেখা হলো না মা ইকরার এবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সেনাপ্রধান নিহতের তথ্য নিশ্চিত করল ইরান মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক শাহজালাল বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ৫৪ ফ্লাইট বাতিল দেশের বৃহত্তর স্বার্থে নবীন চিকিৎসকদের রাজনীতিতে ইনভলভ করবেন না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশ আজ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে ৪ বিভাগে

শেষ মুহূর্তে কোথায় ছিলেন খামেনি, জানাল ইরান

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ মার্চ, ২০২৬,  10:34 AM

news image

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হলো আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর সময় ও স্থান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজের দপ্তরেই দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। কয়েক ঘণ্টা ধরে জল্পনা-কল্পনার পর বিষয়টি নিশ্চিত করে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার ভোরে তাঁর দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিহত হন। খবর বিবিসির। বিবিসি ভেরিফাই স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে তেহরানে খামেনির দপ্তর লিডারশিপ হাউস প্রাঙ্গণের কিছু অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, নিজ দপ্তরে খামেনির মৃত্যু প্রমাণ করে যে তাঁর আত্মগোপনে থাকার খবরগুলো ছিল মূলত শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। এর আগে ইরানি গণমাধ্যম ফার্স নিউজও খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি তাঁর নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে মারা গেছেন। রবিবার ভোরের দিকে তাঁর মৃত্যু হয় বলেও জানানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর খবর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তিনি খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি কেবল ইরানি জনগণের জন্য নয়, বরং সারাবিশ্বের জন্য ন্যায়বিচার। ট্রাম্প লিখেছেন, ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি খামেনি মারা গেছেন। খামেনি ও তাঁর রক্তপিপাসু বাহিনীর হাতে নিহত বা পঙ্গু হওয়া অসংখ্য আমেরিকান এবং বিশ্ববাসীর জন্য আজ সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হলো। তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের নজর এড়াতে পারেননি খামেনি। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে খামেনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যান্য শীর্ষ নেতারা পালানোর সুযোগ পাননি। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি, সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য আর যুদ্ধ করতে চাচ্ছেন না এবং তারা আমেরিকার কাছে দায়মুক্তি প্রার্থনা করছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এখন চাইলে তারা দায়মুক্তি পাবে, কিন্তু দেরি করলে মৃত্যু অনিবার্য। তিনি দাবি করেন, মাত্র এক দিনের অভিযানে ইরান রাষ্ট্রটি অনেকটা ধ্বংস বা বিলীন হয়ে গেছে। তবে এখানেই অভিযান থামছে না। মধ্যপ্রাচ্য এবং পুরো বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে বোমা হামলা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আর নেই। তবে তিনি সরাসরি নিশ্চিত না করে বলেন, যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে তাতে ক্রমেই আভাস স্পষ্ট হচ্ছে যে ইরানের স্বৈরশাসক আর নেই। বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাতে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এ দাবি করেন নেতানিয়াহু। তবে ইরানের তরফ থেকে সে সময় পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য আসেনি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছিলেন, খামেনি কী অবস্থায় আছেন তা স্পষ্ট করে বলার মতো অবস্থায় নেই তিনি।

সোর্সঃ বিবিসি, ফার্স নিউজ, তাসনিম নিউজ

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম