ঢাকা ০৩ নভেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় শতাধিক পোশাক কারখানায় ছুটি, ৫০ পুলিশ সদস্য আহত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ শেখ হাসিনার পক্ষে আপিল হয়নি, তার সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিঠি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অবৈধ ক্লিনিক চালু করা হয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাভারে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ নওগাঁ সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ২০ বোতল ভারতীয় মদ আটক সাতক্ষীরায় স্কুল পর্যায়ে মাদক, বাল্যবিবাহ ও ইভটিজিং রোধে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত পোশাক শ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা: আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৩৩ জন গ্রেফতার শেখ হাসিনা বেঁচে থাকতে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না: তথ্য উপদেষ্টা রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শেখ হাসিনার পক্ষে আপিল হয়নি, তার সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিঠি দিচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষ

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ নভেম্বর, ২০২৬,  4:35 PM

news image

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন,মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজ মঙ্গলবার চিঠি দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষ। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা নিতে ওই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হবে। 


আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। 


শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজনের আপিলে আরেকজনের পার্ট তো কাভার করবে না। শেখ হাসিনার পক্ষে তো কোনো আপিল হয়নি।’ 


তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১১ থেকে ১২ জনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি পাওয়া গেছে।


ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও কোনো আসামি আপিল করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১ ধারার কথা উল্লেখ করেন প্রধান কৌঁসুলি। তিনি বলেন, আইনের ২১(১) ও ২১(২) ধারায় সরকার ও আসামি উভয় পক্ষের আপিলের জন্য ৩০ দিনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ২১(৩) ধারায় বলা হয়েছে, ওই সময়ের মধ্যে আপিল না করলে পরে আর আপিল দায়ের করা যাবে না।


ভবিষ্যতে কোনো আসামি বিলম্ব মার্জনার আবেদন করে আপিল করতে চাইলে সেটি গ্রহণের সুযোগ আছে কি না, এমন প্রশ্নে আমিনুল বলেন, ‘আমরা মনে করি, যেহেতু এটা একটা স্পেশাল ল, সেই স্পেশাল ল-এর উপরে কোনো ডিলে কনডোনেশনের সুযোগ থাকে না। লিমিটেশন অ্যাক্টের কোনো প্রয়োগ থাকে না। ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পর সেই ক্ষেত্রে রায়ের অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নে আইনগত কোনো বাধা নেই। আর আসামি যখন গ্রেপ্তার হবেন, তার রায় কার্যকর হবে।’ 


সময় পার হওয়ার পরও আপিল বিভাগে আপিল গ্রহণের নজির থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের সময়োত্তীর্ণ আপিল এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আপিল বিভাগে বিচারাধীন একটি আপিলের ক্ষেত্রেও প্রসিকিউশন সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরবে।


প্রধান কৌঁসুলি জানান, যেসব আসামি পলাতক আছেন এবং যাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ আছে, খুব দ্রুত তাদের সম্পত্তি সরকারের হেফাজতে নেওয়া হবে।


সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে কী পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেতে পারে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো হিসাব নেই। সম্পত্তি শনাক্ত ও মূল্যায়নের পরই এর পরিমাণ জানা যাবে। ট্রাইব্যুনালের রায়টা হচ্ছে এভাবে যে, আসামিদের সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বিক্রি করে সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য। এখন সেই ৫০ শতাংশ সম্পত্তি কী আছে, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কী রকম আছে, তার ভ্যালুয়েশন কত, সেটা ওই সম্পত্তি শনাক্ত ও বিক্রয় সাপেক্ষে বোঝা যাবে। এখন এটা সরকার করবে।


চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায় ও আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।


সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির বিষয়ে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ক্ষেত্রে পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার আওতায় ব্যবস্থা নিতে আইনগত বাধা নেই। এ বিষয়ে আলাদা বিধি প্রণয়ন করা গেলে তা আরও ভালো হবে।


শেখ হাসিনা ও কামালের মামলার রায়ে সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্তের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে প্রধান কৌঁসুলি বলেন, রোম সংবিধিতে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।


প্রথম দিকের রায়গুলোতে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও আইন অনুসরণ করেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেবেন বলেও জানান আমিনুল ইসলাম।


২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণার পর রায়ে বলা হয়, ‘অভিযুক্ত শেখ হাসিনা এবং অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হবে।’ 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম