NL24 News
২৭ আগস্ট, ২০২২, 11:58 PM
শেখ সাহেব বাজারে শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ দিবস উদযাপন
আব্দুল্লাহ আল মামুন: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎ দিবস উপলক্ষে সারাদেশে আগষ্ট জুড়েই চলছে মিলাদ-মাহফিল ও দোয়া অনুষ্ঠান। শুক্রবার (২৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর লালবাগ থানাধীন ২৬ নং ওয়ার্ডের শেখ সাহেব বাজার এলাকায় ২৩, ২৫ ও ২৬ নং (আংশিক) ওয়ার্ডের এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা, দোয়া ও তবারক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাবেক কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক মো. আবেদ আলী জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবির।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আখতার হোসেন, লালবাগ থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মতিউর রহমান জামাল, ২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা হাসিব উদ্দিন রসি ও সুজাত আলী ভূঁইয়া প্রমুখ। ২৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের চৌধুরী বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইউনিটের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মো. মাহফুজ আলী শিমুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসাসহ ১৫ আগষ্টে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, আজ আমরা যে নেতার শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করছি, সেই নেতার ইতিহাস বলতে গেলে অনেক সময়ের প্রয়োজন। তারপরেও সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও সকলের তা জানা উচিত। ১৯৩৮ সালে টুঙ্গিপাড়ার রায়টে ছাত্রাবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ ভূমিকার কথা উল্লেখ আমাদের স্বাধীকার আন্দোলন পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুরে ধরেন হুমায়ুন কবির। স্বাধীনতা উত্তরকালে ধংসস্তুপে পরিনত হওয়া দেশটাকে বঙ্গবন্ধু যখন ধীরে ধীরে গুছিয়ে তুলছিলেন, তখন ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট খুনি মোশতাক বাহিনী রচনা করলো ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেন। যাতে করে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গ হত্যাকন্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়ানো যায়। প্রধান অতিথি বলেন, আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের দায়িত্বভার গ্রহন করে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ১৫ টি বছর জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে, বিচারপতি সাত্তারের সরকারের বিরুদ্ধে, এরশাদের বিরুদ্ধে এবং খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে, ৪ টি সরকারের বিরুদ্ধে এবং দেশী-বিদেশী চক্রান্তের বিরুদ্ধে লড়াই করে ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ক্ষমতায় আসিন হন। প্রথম অধিবেশনেই জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ১৯৯৮ সালের বন্যা পরিস্থিতি ৩ মাস স্থায়ী ছিল। তারপরও একটি লোককেও না খেয়ে মরতে হয়নি। আর ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বিএনপি ৫ বছর ক্ষমতায় আসার পর, পর-পর ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই বিদ্যুৎ, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১২ ঘন্টাই লোডশেডিং হত, যা আপনারা সবাই জানেন। এই করোনার সময় বাংলাদেশ অনেক বেশী নাজেহাল অবস্থায় ছিল, কিন্তু আমাদের খাদ্যের কোনো অভাব ছিল না, যা বিশ্বে প্রশংসিত হয়। বর্তমান সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়া নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের এই নেতা বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছেন, ঢাকা শহরে প্রায় এক কোটি মানুষের স্বল্প মূল্যে পণ্য কিনতে রেশনের ব্যবস্থা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমাদের রবিশস্য ও আমন ধানসহ স্থানীয় শস্য কৃষকের ঘরে উঠলে আমাদের রিজার্ভ ফান্ডও ইমপ্রুভ করবে। সবকিছু মিলে অল্প সময়ের মধ্যে দেশে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে আমি মনে করি ইনশাআল্লাহ। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগষ্টে সকল শহীদদের, ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় সকল শহীদদের এবং এলাকার পরলোক গমনকারী সকল মুরব্বিয়ানদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাতের পর জনসাধারনের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন চৌধুরী বাজার দোতলা মসজিদের ইমাম আহসান উল্লাহ।