আবুল হোসেন বাবলু
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, 10:32 AM
র্যাব-১৩'র অভিযানে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন প্রধান আসামীসহ গ্রেফতার-২
সিপিএসসি, র্যাব-১৩ রংপুর এর অভিযানে লালমনিরহাটে অটোরিক্সা চালককে গলাকেটে হত্যা ও অটোরিক্সা ছিনতাই এর ক্লুলেস মামলার সহযোগীসহ প্রধান আসামী গ্রেফতার এবং হত্যার রহস্য উন্মোচন। চলতি মাসের ৫ তারিখে লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ ধানাধীন পশ্চিম ইশোরকোল হাইস্কুল সংলগ্ন রুদ্রেশ্বর কাকিনা হতে তিস্তা নদীগামী ক্যানেলের পাড় থেকে এক অটোচালকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের ভাই মৃত দেহ দেখে লাশ সনাক্ত করে যে, এটি তার ভাই সুলতান মিয়ার লাশ। ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে নিহতের বাবা মোঃ আব্দুল গফুর জানায়, প্রতিদিনের মত সুলতান মিয়া অটোরিক্সা নিয়ে বিকেলে নিজ বাড়ি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ভাংনী গ্রাম থেকে রংপুর শহরের উদ্দেশ্যে বের হয়। প্রতিদিন সুলতান মিয়া অটোরিক্সা চালিয়ে রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু গত ৫ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে অটোরিক্সা নিয়ে বের হয়ে আর ফিরে না আসায় তার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করলে মোবাইলে রিং হয় তবে রিসিভ হয় নাই। পরদিন ৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে
বর্ণিত ঘটনাস্থল থেকে লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের ছোট ভাই মোঃ শরিফুল ইসলামের স্ত্রীকে ফোন করে সুলতান মিয়ার গলা কাটা লাশ পাওয়া গেছে বলে জানায়। এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ৬ সেপ্টেম্বর হত্যাসহ ঘটনার আলামত গোপন করেছে মর্মে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। যার মামলা নং-১১, তারিখ ০৬/০৯/২০২২, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। এরই ধারাবাহিকতায় সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল উক্ত ঘটনায় গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। এরই এক পর্যায়ে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩ গত ১১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রংপুর মহানগরীর পার্কের মোড় থেকে ঔই ক্লুলেস হত্যা মামলার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে। এবং হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকেলে র্যাব-১৩'র সদর ক্যাম্পে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আসামী গ্রেফতার এবং রহস্য উদঘাটন সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, র্যাব-১৩'র অধিনায়ক রেজা আহমেদ ফেরদৌস। গ্রেফতারকৃত আসামী রংপুর মহানগর তাজহাট থানার অন্তর্ভুক্ত আশরতপুর ইদগাহ পাড়া মহল্লার মৃত বাবলু চৌধুরীর ছেলে মোঃ সুজন চৌধুরী (৪০)। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে যে, সে সহ তার সহযোগী লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত কাকিনা গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের ছেলে মমিনুর ইসলাম (২৯)'র সহায়তায় গত ৫সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক সাড়ে পাঁচটার দিকে ভিকটিম সুলতান মিয়াকে যতক্ষণ অটোতে চার্জ থাকবে ততক্ষণ ঘুরবে বলে ভাড়া ঠিক করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অটো রিক্সা চালককে পার্কের মোড় থেকে খাবার খাইয়ে মহীপুর ব্রীজ এর ওপারে নিয়ে যায়। সেখানে চা, সিগারেট খাওয়ার বাহানা করে সময় ক্ষেপন করে। সুযোগ বুঝে সহযোগী মোঃ মমিনুর ইসলাম সুলতান মিয়াকে খাবারের সাথে ঘুমের ঔষধ জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে তা খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে। আসামী সুজন চৌধুরী এবং তার সহযোগী মমিনুর ইসলাম মিলে সুলতান মিয়াকে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ থানাধীন পশ্চিম ইশোরকোল তিস্তা নদীগামী ক্যানেলের পাড়ে নিয়ে গিয়ে রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে ছুরি দিয়ে গলা কেটে মৃতদেহ ক্যানেলে ফেলে দেয়। হত্যাকারী সুজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ১১ সেপ্টেম্বর সিপিএসসি, র্যাব-১৩ রংপুর এর একটি আভিযানিক দল সহযোগী মমিনুর ইসলামকে লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত কাকিনা গ্রামস্থ তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে। তাদের দেখানো মতে সুলতান মিয়ার অটোরিক্সাটি কালিগঞ্জের মহিষামুড়ি গ্রামের মৃত জহুরুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাদেকুল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরস্পর যোগসাজসে সাদেকুল ইসলামের কাছে অটোরিক্সাটি ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিল বলে জানা যায়। পরবর্তীতে আসামীদের দেখানো মতে উদ্ধারকৃত আলামতসহ গ্রেফতারকৃত আসামীদের লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম প্রকৃয়াধীন রয়েছে।