ঢাকা ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
ধানমন্ডিতে বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট সিলেটে কিশোরীকে শিকল বেঁধে ঘোরানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩ ‘আস্থা হারানোর’ কথা জানিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পদ ছাড়লেন সায়মা ওয়াজেদ আলিস্তারের গোলে লিভারপুলের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন ফিলিপাইনে ফেরিতে ভয়াবহ আগুনে ৫ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৮৬ খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশ দুর্বল ১০ ব্যাংকে ডেঙ্গুর লাগামহীন প্রকোপ এসবিএসি ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ মাকছুদুর রহমান সরকার এফসিএমএ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে ইরান যুদ্ধ, ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের সতর্কবার্তা রেলের প্রধান আয়ও থমকে গেছে ইঞ্জিনসংকটে

রেলের প্রধান আয়ও থমকে গেছে ইঞ্জিনসংকটে

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,  11:17 AM

news image

♦ মুখ থুবড়ে পড়েছে পণ্যবাহী ট্রেন ♦ দিনে ১৩টির বদলে চলছে ৪-৫টি

বাংলাদেশ রেলওয়ে। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় যোগাযোগ খাত। যার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা দেশের প্রবৃদ্ধিকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে। অবকাঠামোগত সব সুবিধাই আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ খাত লোকসানে নিমজ্জিত। আর এ লোকসানের অন্যতম কারণ পণ্যবাহী ট্রেন পরিবহনের জন্য যে পরিমাণ ইঞ্জিন দরকার তা কমে যাওয়া। রেলওয়ে দুই ধরনের সেবা দেয়। এর একটি যাত্রীবহন, অন্যটি পণ্যবহন। যাত্রীবাহী ট্রেনে খরচ বেশি হলেও পণ্যবাহী ট্রেনে অল্প খরচে বেশি আয় করে রেল।


রেলের অর্থ বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম-কমলাপুর রুটে কনটেইনার পরিবহন থেকেই সবচেয়ে বেশি আয় করে তারা। কিন্তু ইঞ্জিনসংকটের কারণে আয়ের প্রধান উৎসে টান পড়েছে। এ রুটে প্রতিদিন পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে ১৩টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিন্তু মিলছে এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৪ থেকে ৫টি ইঞ্জিন। যার কারণে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের জটিলতার মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সময় সিজিপিওয়াই (চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ড) থেকে প্রতিদিন কনটেইনারবাহী ট্রেন ঢাকার কমলাপুর আইসিডিসহ (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যেত। কনটেইনারবাহী ট্রেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলের তেলবাহী ওয়াগন চলাচলে দিনরাত সরগরম থাকত সিজিপিওয়াই। যাত্রীবাহী ট্রেনের তুলনায় শতভাগ লাভজনক এ খাত রেলওয়ের প্রাণ হলেও ইঞ্জিনসংকটের কারণে এখন তা প্রায় বন্ধের উপক্রম। ট্রেন না চলার কারণে সিজিপিওয়াইয়ে কনটেইনারের স্তূপ জমেছে। পর্যাপ্ত রেল ইঞ্জিনের অভাব, অনিয়মিত ট্রেন পরিচালনা এবং কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতিসহ নানা বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম ও প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের কাছে কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।


চিঠিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডি কমলাপুরমুখী কনটেইনার পরিবহন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। ফলে আইসিডি কমলাপুর কার্যত অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রেলওয়ের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে আমদানিকারকরা আইসিডি ব্যবহার করতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এতে কনটেইনার দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকছে এবং আমদানিকারকদের লাখ লাখ টাকা লোকসান ও ক্ষতিপূরণ চার্জ গুনতে হচ্ছে। আইসিডি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত, কাঁচামাল সরবরাহে সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থার (সাপ্লাই চেইন) ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। অবশ্য ব্যবসায়ীদের এই চিঠির ব্যাপারে গত রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের মোবাইল ও হোয়াটস অ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।


তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পণ্যবাহী ট্রেন চালাতে আমাদের ১০-১২টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন। কিন্তু ইঞ্জিনসংকটের কারণে সেটি তো আর সম্ভব হচ্ছে না। গত মাসের তুলনায় এ মাসে ইঞ্জিন কিছুটা বেড়েছে। এ মাসে আমরা ৪-৫টি করে ইঞ্জিন দিয়ে চালাচ্ছি। আশা করি, দ্রুত সময়ে সমস্যার সমাধান হবে। বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম গুডস পোর্ট ইয়ার্ডের (সিজিপিওয়াই) ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এনামুল হক সিকদার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ইঞ্জিনের সমস্যা আছে। তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় অনেক ভালো পাওয়া যাচ্ছে। সিজিপিওয়াই থেকে এখন দুই তিনটি কনটেইনারবাহী ট্রেন চলাচল করে। এতদিন ট্রেন চলাচল না করার কারণে কনটেইনারের স্তূপ পড়ে থাকলেও এখন তা আর নেই। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম