নিজস্ব প্রতিনিধি
০৮ আগস্ট, ২০২৩, 2:26 PM
রংপুরে কারিগরি ও ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ বিষয়ক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত
আবুল হোসেন বাবলুঃ অর্থনৈতিকভাবে উত্তরের জনপদ তথা রংপুর অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এই উত্তর অঞ্চলের জনপদকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কারিগরি শিক্ষা ও অভিবাসন সহায়ক ভাষা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান। সোমবার (০৭ আগস্ট) রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হাবিবুর রহমান এর সভাপতিত্বে বিভাগীয় কমিশনার এর সম্মেলন কক্ষে রংপুর বিভাগের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে চাইনিজ, কোরিয়ান, জাপানি, আরবি ও অভিবাসনে সহায়ক অন্যান্য ভাষা শিক্ষা কোর্স চালুকরণ বিষয়ক একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষি, রেমিটেন্স ও গার্মেন্টস শিল্প এই ৩টি খাতের উপর নির্ভর করে। তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনৈতিকভাবে উত্তরের জনপদ তথা রংপুর অনেক পিছিয়ে রয়েছে। আর পিছিয়ে থাকার সবচেয়ে বড় কারণ এ অঞ্চলের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো উন্নত দেশে বাংলাদেশী অভিবাসীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশী অভিবাসীদের সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে গমনকারী অভিবাসীদের মধ্যে অধিকাংশই অদক্ষ শ্রমিক। সংখ্যার আনুপাতিক হারে বাংলাদেশ অন্য অনেক দেশ থেকে এগিয়ে থাকলেও দক্ষতার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকায় আমাদের বাংলাদেশী অভিবাসীদের উপার্জন অপেক্ষাকৃত কম। বাংলাদেশের অভিবাসীরা বেশিরভাগ রয়েছে পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নির্মাণ শ্রমিক, হাসপাতাল পরিষ্কারক, গৃহকর্মী, রাখাল, দোকানপাটে বিক্রয় সহকারী প্রভৃতি কাজে নিযুক্ত। এদেশে বিপুল সংখ্যক উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবক রয়েছে, যারা দেশে জীবিকা নির্বাহের কর্মসংস্থান পাচ্ছে না। আবার প্রয়োজনীয় স্কিল না থাকায় বিদেশেও আশানুরূপ অভিবাসন পাচ্ছে না। অর্থনৈতিকভাবে দেশের উত্তরের বিভাগ, রংপুরের চিত্র খুব নাজুক। এখানকার স্কিলড শ্রমিকদের ঘাটতি তো রয়েছেই, তার সাথে সম্পূরক সমস্যা এ অঞ্চলের মানুষের গৃহ কাতরতা। সারাদেশের পরিসংখ্যান বিবেচনায় রংপুরে অভিবাসীর সংখ্যা খুব কম।
এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে রূপান্তরের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দক্ষ মানব সম্পদ উন্নয়ন প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহে অভিবাসনের জন্য সহায়ক ভাষা যেমন- চাইনিজ, কোরিয়ান, জাপানি, আরবিসহ অন্যান্য ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করা দরকার। তিনি বলেন, উত্তর অঞ্চলের জনপদকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কারিগরি শিক্ষা ও ভাষা শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। সভায় সকলের মতামত গ্রহণান্তে সভাপতি সর্বসম্মতিক্রমে, রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) বিদেশি ভাষা (কোরিয়ান, চাইনিজ, জাপানি, আরবি ইত্যাদি) শিক্ষা কোর্স চালুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) এ ডব্লিউ এম রায়হান শাহ্ কে আহ্বায়ক করে ২২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে কোন কোন ভাষা চালু করা যায় তার সম্ভাব্যতা নিরূপণ, বিদ্যমান অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা পরীক্ষাকরণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অন্যান্য সুবিধা নির্মাণ/সৃজনের আবশ্যকতা যাচাই করে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত সভায় রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও বিভিন্ন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষগণ অংশগ্রহণ করেন।