ঢাকা ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
আশুলিয়ায় লরিতে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে চুয়েটে সর্বাত্মক শাটডাউন বাসভাড়া বাড়ল দূরপাল্লা ও মহানগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি পুনর্নির্ধারণ দূরপাল্লার বাসে কিমি প্রতি ৮ পয়সা, শহরে ১০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইস্যুতে আইএমএফের কোনো শর্ত নেই: জাহেদ উর রহমান নারীর গোলাপি বাস: তেলের টাকাই উঠছে না দিনে ভর্তুকি ৫০ হাজার নিয়ম না মানলে অনুমোদিত ক্লিনিকও বন্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন জাপানে টাইফুন দুজুয়ানের তাণ্ডব, বাতিল শত শত ফ্লাইট ও বন্ধ রেল চলাচল

রংপুরের তারাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রী হত্যার মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

#

১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫,  3:33 AM

news image

আবুল হোসেন বাবলুঃ  রংপুরের তারাগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় (৭৫) ও তার স্ত্রী সুর্বণা রায় (৬০) কে নিজ বাড়িতে ক্লুলেস হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল অভিযুক্তকে সনাক্ত ও গ্রেফতার করেছে পুলিশ।শুক্রবার ভোরে রংপুর জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম তারাগঞ্জ থানাধীন আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত বালাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তার নিজ বাড়ী হতে গ্রেফতারসহ  হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটি উদ্ধার করা হয়।  জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ধৃত আসামী রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানাধীন শেরমস্ত গ্রামের রুহুল আমিন এর ছেলে মোরসালিন ইসলাম (১৯)। তিনি পেশায় একজন টাইলস মিস্ত্রি। হত্যার দুই দিন আগে সে যোগেশ চন্দ্রের বাড়িতে টাইলস লাগানোর কাজ করেন।  উল্লেখ্য যে, শনিবার ৬ ডিসেম্বর রাতে কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর (খিয়ারপাড়া) গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে তাঁদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার অগ্রগতি হিসেবে পুলিশ এ পর্যন্ত ১ জনকে গ্রেফতার করল। উক্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) আসামী গ্রেফতারের পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন রংপুর জেলার পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন। ধৃত আসামীর বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত তারাগঞ্জ সরকারি ডিগ্রী কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে লেখাপড়া করার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রি/টাইলস মিস্ত্রির সহকারী হিসাবে কাজ করে। গত (১ থেকে ৩ ডিসেম্বর) পর্যন্ত যোগেশ চন্দ্র রায় এর বাড়ীতে টাইল্স মিস্ত্রির সহকারী হিসাবে কাজ করে। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন  বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যার কারণ হিসেবে জানা গেছে চুরি। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত এখনই জানানো হচ্ছে না। ধৃত আসামী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মোরছালিন ওই বাড়ীতে কাজ করাকালে জানতে পারে যোগেশ চন্দ্র ও তার স্ত্রী ছাড়া বাড়ীতে কেউ থাকেন না। বাড়ীতে অনেক টাকা, স্বর্ণালঙ্কার থাকতে পারে। আসামী দরিদ্র এবং তার ব্যক্তিগত কিছু দেনা থাকায় সে তাদেরকে হত্যা করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুট করার পরিকল্পনা করে। সুযোগ বুঝে ৬ ডিসেম্বর রাতে যোগেশ চন্দ্রের আঙ্গিনায় থাকা আমগাছ বেয়ে বাড়ীতে ঢুকে প্রথমে সুবর্ণা রানীকে তাদের বসতবাড়ির রান্না ঘরে এরপর যোগেশ চন্দ্র রায়কে ডাইনিং রুমে চেয়ারে বসে থাকা অবস্থায় কুড়াল দিয়া মাথায় উপর্যুপরি কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।পরে শয়ন ঘরের টেবিলের নিচে থাকা ধারালো ছোরা দ্বারা স্টিলের আলমারীর লক ভেঙে টাকা-পয়সা, সোনাদানা  খোঁজ করে। কিন্তু কোন কিছু না পেয়ে ছোরাটি ঘরের মেঝেতে রেখে একই পথে বাড়ীর বাহির হয়ে বাড়ির পিছনে থাকা হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটি জনৈক পরেশ চন্দ্রের কুচুরীপানাযুক্ত পুকুরে ফেলে চলে যায়। গ্রেফতারের পর মোরছালিনকে সাথে নিয়ে তার দেয়া তথ্য মতে পুলিশ শুক্রবার যোগেশ চন্দ্রের বাড়ির পাশের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কুড়ালটি উদ্ধার করেছে।  নিহত যোগেশ চন্দ্র রায় পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ২০১৭ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ থেকে অবসরে যান। তার দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় থাকেন জয়পুরহাটে এবং ছোট ছেলে রাজেশ চন্দ্র রায় থাকেন ঢাকায়। তারা দুজনেই পুলিশে চাকরি করেন। গ্রামের বাড়িতে শুধু স্বামী-স্ত্রী দুজনই থাকতেন। 

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম