নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, 10:14 PM
ভূমিদস্যু জমিরের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রামের চাঁদগাঁও থানার খতিববাড়ী মাহবুব কলোনিতে সন্ত্রাসী দ্বারা এক প্রবাসির জায়গা জোরপূর্ব দখল ও ভিতরে থাকা ভাড়াটিয়া এবং মহিলা কেয়ারটেকারকে মারধর ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করার ঘটনায় শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী কামরুন নাহার। সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর স্ত্রী বলেন, এক ভূমিদস্যু ও তার গংরা চাঁদগাঁও ১৪ নং গ্যারেজ, খতিববাড়ী মুখে রাতের অন্ধকারে আমার স্বামীর জমিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা, ভাংচুর, কেয়ার টেকারকে কিডন্যাপের প্রতিবাদে এই সংবাদ সম্মেলন। গত ৩১ জানুয়ারী ২০১৬ ইং তারিখে চাঁদগাঁও সাব রেজিস্ট্র অফিসে প্রথমে বায়না পরবর্তীতে রেজিস্ট্রীমূলে আমার স্বামী আবু হানিফ আমার দেবর মোহাম্মদ বাবর জমির প্রকৃত মালিক মোহাম্মদ শোয়াইবের কাছ থেকে জমির মালিকানা স্বত্ব বুঝে নেয়।
গত ৬বছর যাবত আমরা আমাদের কেনা সম্পত্তিতে ভোগ দখল করে আসছি। গত ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২ইং তারিখে ভূমিদস্যু মোহাম্মদ জমিরউদ্দীন ও আবুল কাসেম গংদের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জনের সন্ত্রাসী দল আমাদের চাঁদগাঁও থানার ১৪নং গ্যারাজ সংলগ্ন খতিববাড়ী মুখ মাহবুব কলোনী নামীয় স্থাপনায় হামলা চালায়। এসময় আমাদের ভাড়াটিয়াদের মারধর ও স্থাপনায় থাকা ভাড়াঘরে হামলা ভাংচুর চালায়। সন্ত্রাসীরা আমার বিদ্যুত লাইন, মিটার, সিসি ক্যামেরা, সেমি-পাকা ঘরের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এক পর্যায়ে আমাদের কেয়ারটেকার নাসিমাকে তারা একটি হাইস গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় হত্যার উদ্দেশ্য। এ সময কেয়ারটেকারকে জমির ও কাসেম গংদের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা শারীরিক ভাবে মারধর করে। নাসিমাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা বুঝতে পেরে কিডনাপকারীদের হাতে পায়ে ধরে প্রাণভিক্ষা চাইলে তাকে কুয়াইশ অক্সিজেন রোডে নির্জন স্থানে ফেলে যায়। আহত অবস্থায় তাকে টহল পুলিশ উদ্ধার করে। আমাদের এই জমির উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার সত্বেও তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। সাংবাদিক ভাইয়েরা, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে আমার বড় ভাই (ভাসুর) প্রথমে চাঁদগাঁও থানায় পরদিন সাধারণ ডায়েরি ও পরদিন অর্থাৎ সোমবার জমির উদ্দিন আবুল কাশেম গংদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করে চাঁদগাঁও থানায়। এই ঘটনার সত্যতা দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্প্রচার ও ছাপানো হয়। পরবর্তীতে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ মামলার ৫ আসামীকে গ্রেফতার করে। তবে প্রধান আসামী ভূমিদস্যু জমির ও কাসেম পলাতক থাকায় আমরা ভীতিকর সময় অতিবাহিত করছি। আপনাদের লিখনির মাধ্যমে প্রশাসন ঐ দিনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার মূল আসামী জমির ও তার গংদের দ্রুত আইনের আওতায় আনবে বলে আশাবাদব্যক্ত করছি। আমাদের মত প্রবাসীরা যারা মাথারঘাম পায়ে ফেলে দেশের ভাগ্য-উন্নয়নের লক্ষ্যে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সামান্য মাথাগোঁজার জন্য যে সম্বল কেড়ে নিতে চায় তাদের বিরুদ্ধে শক্তহাতে কলম ধরবেন সে আশাবাদ ব্যক্ত করছি। জমির উদ্দিন ও কাশেম গংদের প্রধান ব্যবসা অসহায় ও প্রবাসীদের জমি দখল করা। জমির মানুষদের ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক। চট্টগ্রাম শহরে তার রয়েছে একাধিক বাড়ী কয়েক বিঘা সম্পত্তি। তার আয়ের উৎস নিয়ে আপনারা লিখুন। জমির ও কাশেম গংদের হাত থেকে আমাদের মতো অসহায়দের রক্ষা করুন। আপনাদের মাধ্যমে আমি ও আমাদের পরিবারের সবাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভূমিদস্যু জমিরদের বিচারের আওতায় আনার। এমতাবস্থায় কামরুন নাহার ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানান। অবিলম্বে প্রধান আসামি জমির উদ্দিন ও কাশেমকে গ্রেফতার পূর্বক শাস্তি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানান। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।