ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না বিদেশিরা: দিল্লি হাইকোর্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর, ২০২৬, 2:19 PM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০৪ অক্টোবর, ২০২৬, 2:19 PM
ভিসা থাকলেই ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না বিদেশিরা: দিল্লি হাইকোর্ট
বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের অধিকার নিশ্চিত হয় না বলে রায় দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকের কোনো সহজাত বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার নেই।
৩০ সেপ্টেম্বর দেওয়া এক আদেশে বিচারপতি অমিত মহাজন বলেন, বৈধ ভ্রমণ নথি ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কোনো বিদেশিকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি নাও দেওয়া হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা, ভারতের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা, অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং জনস্বাস্থ্যের মতো বিষয় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আইনে রয়েছে।
আদালত আরও বলেন, ভিসা দেওয়া, ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া এবং অভিবাসন ছাড়পত্র দেওয়া রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অংশ। এসব সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও প্রশাসনিক বিবেচনার সঙ্গে যুক্ত।
তুর্কমেনিস্তানের এক নারী নাগরিকের করা একটি আবেদন খারিজ করার সময় আদালত এসব পর্যবেক্ষণ দেন। ওই নারী ২৫ মার্চ ভারতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কারণ জানিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে লিখিত আদেশ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়িক ভিসার ভিত্তিতে তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি।
ওই নারীর দাবি ছিল, তার বৈধ পাসপোর্ট ও ব্যবসায়িক ভিসা থাকা সত্ত্বেও তাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তুর্কমেনিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়। তার সঙ্গে থাকা স্বামীকে অবশ্য ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
সরকারের পক্ষ থেকে আবেদনের বিরোধিতা করে বলা হয়, বৈধ ভিসা থাকলেই কোনো বিদেশি নাগরিকের ভারতে প্রবেশের অবিচ্ছেদ্য অধিকার তৈরি হয় না। ভিসা দেওয়া এবং ভারতে প্রবেশের অনুমতি দুটি আলাদা বিষয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কাঠামোর অধীনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি আইনজীবী আরও জানান, ওই নারীর বিষয়ে কিছু নেতিবাচক তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তার ভারতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওই নারী ৪৭ বার ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন। বেশির ভাগ সফরের মেয়াদ ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিন। তিনি ব্যবসায়িক ও চিকিৎসা দুই ধরনের ভিসা ব্যবহার করে ভারতে যাতায়াত করেছিলেন। তার ভ্রমণের এই ধরন নিয়ে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল বলে জানানো হয়।
আদালতে উপস্থাপিত নথি পর্যালোচনা করে বিচারপতি মহাজন দেখতে পান, ওই নারীর বাবা-মা ও স্বামীর পরিচয়সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। সফরের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবসার কথা বলা হলেও তার কাছে কোনো ব্যবসায়িক কার্ড বা আমন্ত্রণপত্র ছিল না। নিজ দেশে তার ব্যবসা সম্পর্কেও তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারেননি। এ ছাড়া তিনি ব্যবসায়িক ভিসা নিয়েছিলেন, কিন্তু নিজেকে ‘গৃহিণী’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।
সব পরিস্থিতি ও নথিপত্র বিবেচনায় নিয়ে আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেন। বিচারপতি মহাজন বলেন, ভারতে প্রবেশের জন্য কোনো বিদেশি নাগরিকের এমন কোনো সহজাত বা আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য অধিকার নেই, যার ভিত্তিতে তিনি প্রবেশের অনুমতি দাবি করতে পারেন।