স্পোর্টস ডেস্ক
০২ মার্চ, ২০২৬, 10:37 AM
বড় ম্যাচে মানসিক শক্তিটাই জরুরি: গৌতম গম্ভীর
অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। অলিখিত কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে নিশ্চিত করেছে সেমি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৯৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২৫ বলে ৪০ রান করেছেন রোস্টন চেইজ। ১২ বলে ২৭ রানের ক্যামিও খেলেন শিমরন হেটমায়ার। শেষ দিকে ১৯ বলে ৩৪ রান করে টিকে ছিলেন রভম্যান পাওয়েল। ২২ বলে ৩৭ রানের ক্যামিও খেলে অপরাজিত ছিলেন জেসন হোল্ডার।
জবাব দিতে নামা ভারতের জয়ের নায়ক ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। দারুণ সব ক্রিকেটিং শটে রান বের করেছেন স্যামসন। কোনো তাড়াহুড়া ছাড়া সাবলীল ব্যাটিংয়ে ছুটেছেন লক্ষ্যের দিকে। একদম শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ৫০ বলে ৯৭ রানের হার না মানা এক ইনিংস খেলেছেন। অযথা ঝুঁকি নিয়ে তেড়েফুঁড়ে শট না খেলে ঠান্ডা মাথায় রান তাড়া করে ভারতের জয়ের নায়ক হয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধি হয়ে আসেন প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর। দলের কৌশল, বিশ্বকাপের চাপ, ম্যাচ জয়ের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন গম্ভীর।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজের মত বিশ্বকাপে পারফর্ম করতে না পারা নিয়ে গম্ভীর বলেছেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং বিশ্বকাপ এক নয়। চাপ ভিন্ন, প্রতিযোগিতা ভিন্ন। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ফিরে আসার সুযোগ থাকে, বিশ্বকাপে থাকে না। আমি জানি সবাই একই খেলাটা প্রত্যাশা করে। বিশ্বকাপে এসে পরিস্থিতি বুঝে খেলা বুঝে রান বের করাটা জরুরি। আজকে ১৯৫ রান তাড়া করতে গিয়ে আমরা কখনওই ম্যাচের বাইরে চলে যাইনি। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হয়ত ১৫-১৬ ওভারে রান তাড়া করে ফেলতাম, তবে বিশ্বকাপ ভিন্ন মঞ্চ।’
রান তাড়া নিয়ে গম্ভীর বলেছেন, ‘সেরা ব্যাপার হচ্ছে ইডেন গার্ডেনসে আমি অনেক ম্যাচ খেলেছি এবং দেখেছিও। রান তাড়ার জন্য এটা ভালো মাঠ। এখানের আউটফিল্ড দুনিয়ার সবচেয়ে দ্রুততমগুলোর মধ্যে একটি। আইপিএলেও দেখা গেছে ২৬০-৭০ রানের কাছাকাছি রান তাড়া হয়েছে। আমরা জানতাম উইকেট হাতে থাকলেই রান তাড়া করা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন মানেই আপনাকে সব ম্যাচ জিততে হবে, এটাই সোজা কথা। ছোট টুর্নামেন্ট, দ্রুত খেলা হয় এখানে। প্রতি ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে। কোনো ম্যাচকেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। সব ম্যাচেই নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।’
প্রধান কোচের মতে, ‘বড় ম্যাচ, বিশ্বকাপ, নকআউট এসব জায়গায় স্কিল নয়, মানসিক শক্তিটাই জরুরি। কতটা চাপ নিতে পারছেন, এটাও অনেক জরুরি। ছেলেদের এটাই বলেছি যতটা চাপ নিতে পারবে এই টুর্নামেন্ট জেতার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। ১৯৫ রান কোনো মাঠেই তাড়া করা অত সহজ নয়। ফলে মানসিক শক্তি ভালো রেখে চাপ সামলে আগানো জরুরি ছিল।’
সেমিফাইনালে ভারতের সামনে এবার ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষের ব্যাপারে গম্ভীর বলেছেন, ‘তারা বিশ্বমানের একটি দল। কোয়ালিটি দল। অনেক কোয়ালিটি প্লেয়ার রয়েছে। ওয়াংখেড়ে বেশ কঠিন ভেন্যু। আশা করি সেই ম্যাচে দলের জন্য আরও একটি ভালো সুযোগ থাকবে এবং নিজেদের সেরাটা খেলতে পারব এমন কোয়ালিটি দলকে হারানোর জন্য। যা দলের জন্য ভালো এবং দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে। এমন কোয়ালিটি দলকে হারাতে স্পেশাল এফোর্টই লাগবে।’ ৫ মার্চ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত এবং ইংল্যান্ড।