নিজস্ব প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি, ২০২২, 2:10 PM
বিজিবি কর্তৃক জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গায় কৃষকদের মানববন্ধন
চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন (বিজিবি) কর্তৃক তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণ করার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে সদর উপজেলার জাফরপুর ও হায়দারপুর গ্রামের কৃষক-কৃষাণীরা। শনিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা জাফরপুরস্থ বিজিবি ক্যাম্পের পিছনে হায়দারপুর ও জাফরপুর গ্রামের মাঠে নিজেদের জমির সামনে কৃষকেরা এ মানববন্ধন করেন। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার জাফরপুর ও হায়দারপুর গ্রামের মাঝখানে চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ রোডে চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর অবিস্থত। ওখানে বিজিবির ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে কৃষকদের দাবি,
জাফরপুর ও হায়দারপুরের ৩৮ ও ৩৯ নম্বর মৌজার যে জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা তিন ফসলি জমি। এ সকল জমিতে ১৪ মাসে ৪টি ফসল হয় বলেও দাবি কৃষকদের। তাঁরা এ জমি অধিগ্রহণের জন্য দিতে রাজি নয়। মানববন্ধনে আসা কৃষক রজব আলী বলেন, ‘জাফরপুর ও হায়দারপুরের গ্রামের মানুষেরা চাষাবাদ ও কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। এ এলাকায় ধান, ভুট্টা, পান, ডাল ফসল, আলু, কপি এবং খেজুর গাছের রস উৎপাদন হয়, যা রাজধানীসহ সারা দেশে রপ্তানি হয়ে থাকে। ৩৮ ও ৩৯ নম্বর মৌজায় যে সকল চাষযোগ্য জমি রয়েছে, সেখানে ১৪ মাসে ৪টি ফসল উৎপন্ন করা হয়ে থাকে। জমি দিয়ে দিলে আমরা খাব কী।’ মানববন্ধনে আসা কৃষকেরা বলেন, ‘৩৮ ও ৩৯ নম্বর মৌজায় বিজিবি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প রয়েছে। সেখানে ট্রেনিং সেন্টার করার জন্য বসত-বাড়িসহ প্রায় ৩ শ বিঘা জমি অধিগ্রহণ করা হবে শোনা যাচ্ছে। আমরা আমাদের কৃষি জমি হারাতে চাই না। প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন, দেশের উন্নয়ন করতে যেয়ে ১ ইঞ্চিও কৃষি জমি নষ্ট করা হবে না, কোনো কৃষি জমিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে না।
আমরা কোনো মূল্যেই আমাদের কৃষি জমি দিতে চাইনা।’ এসময় কৃষকদের বিক্ষোভ মিছিলও করতে দেখা যায়। কৃষক-কৃষাণীরা বলেন, ‘আমাদের জমি নিয়ে নেওয়া চেষ্টা করা হলে, আমরা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিবো। কোনোভাবেই আমাদের থেকে জমি নিতে দিবো না।’ কৃষক রবিউল ম-ল, সোহেল ম-ল, হামিদুল ম-ল ও মাজেদ আলী বলেন, ‘বিজিবি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠার জন্য জাফরপুর মৌজায় ২৭৫ বিঘা ও হায়দারপুর মৌজায় ৭৫ বিঘা কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে আগেই। জেলা স্টেডিয়ামে নির্মাণের জন্য জাফরপুর মৌজায় ৫০ বিঘা জমি অধিগ্রহণকরা হয়েছে। জেলা যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাফরপুর মৌজায় ১৫ বিঘা কৃষিজমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পাওয়ার গ্রিড সাব-স্টেশন প্রতিষ্ঠার জন্য জাফরপুর মৌজায় ২০ বিঘা কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সামাজিক বন বিভাগ অফিস ও নার্সারি প্রতিষ্ঠার জন্য জাফরপুর মৌজায় ১৫ বিঘা কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ব্রাক ও গণসাহায্য সংস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য জাফরপুর মৌজায় ৫ বিঘা কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা। সিএস, এসএ, আরএস রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও জাফরপুর ও হায়দারপুর গ্রামবাসীর ব্যক্তি মালিকানা জমির ওপর খাল খননের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রায় ৩৫০ বিঘা ফসলি জমিতে খাল খনন করা হয়েছে। ট্রেনিং সেন্টার খোলার নামে বর্তমানে বিজিবি বসত-বাড়িসহ প্রায় ৩ শ বিঘা কৃষি জমি অধিগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা বাস্তবায়ন হলে জাফরপুর ও হায়দারপুর গ্রামে কৃষি জমি বলে কিছুই থাকবে না। আমরা গ্রামবাসী কোনোভাবেই কৃষি জমি আর দিবো না।’