ঢাকা ০৬ আগস্ট, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
সাতক্ষীরায় ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড: ধোঁয়ায় অসুস্থ অন্তত ৫০, রোগী সরিয়ে নিল ফায়ার সার্ভিস-বিজিবি রক্তের আখরে লেখা গণঅভ্যুত্থান, ইতিহাসের নতুন বাঁকে বাংলাদেশ ‎বাগেরহাটে একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবিরের দুই দফায় সংঘর্ষ বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্কের বিধান নিয়ে হাইকোর্টের রুল ঢাকা কলেজে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬,১২৫ জনপ্রত্যাশা পূরণে সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Barguna YfP Committee-এর সামাজিক জবাবদিহিতা অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের সফল সমাপ্তি

বিএসইসির নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান

#

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ জুন, ২০২৬,  3:52 PM

news image

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের মাসুদ খান নিয়োগ পেয়েছেন। আর তিন কমিশনার হিসেবে নারী আইনজীবী নাহিদ মাহতাব, আশা ইন্টারন্যাশনালের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর তানভীর হাবিব রহমান এবং ঢাকা ব্যাংক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নাফিজ-আল-তারিক নিয়োগ পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী তাকে বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে আগামী চার বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তাকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

পূর্বে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন-১৯৯৩’ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত বিএসইসির চেয়ারম্যান পদে থাকার নিয়ম ছিল। তবে ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে এই বয়সসীমার বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়। এর ফলে ৭১ বছর বয়সী এ অভিজ্ঞ করপোরেট লিডারের বিএসইসি প্রধান হওয়ার পথ সুগম হয়। মাসুদ খান বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনিলিভার কনজিউমার কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোতে ২০ বছর ধরে দেশ ও বিদেশে ফিন্যান্সের শীর্ষ পদে দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়াও তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ, ম্যারিকো বাংলাদেশ, সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র স্বাধীন পরিচালক হিসেবে যুক্ত আছেন।

২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর নিয়োগ পাওয়া সাবেক ব্যাংকার খন্দকার রাশেদ মাকসুদের অধীনে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা ও বাজার ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিন বিএসইসির চেয়ারম্যান পদ থেকে খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং তার কমিশনাররা মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের অসন্তোষ এবং কমিশনের অভ্যন্তরীণ নানা মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। তবে পদত্যাগের বিষয়ে কমিশনারদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পদত্যাগের বিষয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে রাশেদ মাকসুদ বলেন, দেশের পুঁজিবাজারের অন্যতম অস্থির সময়ে তিনি ও তার সহকর্মীরা কমিশনের দায়িত্বগ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বাজারের আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা, নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার সংস্কার এবং বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, গত ২১ মাসে কমিশন পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের ভিত্তি তৈরির জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে মার্জিন ঋণ, প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও), মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ঋণপত্র এবং হুইসেলব্লোয়ার–সংক্রান্ত পাঁচটি বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি করপোরেট গভর্ন্যান্স, অডিট এবং করপোরেট পুনর্গঠন বিষয়ে তিনটি খসড়া বিধিমালা ও নির্দেশিকা জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে।

রাশেদ মাকসুদ আরও জানান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড আইন নামে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া প্রস্তুত করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার মতে, এসব উদ্যোগ পুঁজিবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্বে কমিশন বাজারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করেছে। বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক হস্তক্ষেপের চর্চা কমিয়ে এনে মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান, তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং বাজার অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি নিয়মভিত্তিক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টিকেও কমিশনের অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্রতিযোগিতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম