ঢাকা ০৪ জুলাই, ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষকতার চেয়ে মহান পেশা আর কিছু হতে পারে না: মির্জা ফখরুল আয়াতুল্লাহ খামেনির রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন খামেনির শেষ বিদায়ে গ্র্যান্ড মোসাল্লার বাইরে মানুষের ঢল ইউরোপে ভয়াবহ তাপপ্রবাহে তিন দেশে মৃত্যু ৩৭০০ ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা নরওয়ে ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় সুখবর বিশ্বকাপে শেষ ষোলোয় উঠল কোন কোন দল, কে কার মুখোমুখি? বিভিন্ন সময়ে যেসব অঞ্চল কিনে বর্তমান মানচিত্র তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র জুলাই জাতীয় সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ফিলাডেলফিয়ার গরম নিয়ে চিন্তিত ফ্রান্স কোচ

বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

#

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ জুলাই, ২০২৬,  11:03 AM

news image

কয়েক দশকে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে এটি ইতিহাসের সবোর্চ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এ বছর বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৪৬ লাখেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ এ রোগে প্রাণ হারিয়েছেন।

এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ থেকে ৪০ লাখেরও বেশি রোগী এবং তিন হাজারেরও বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু এখন আর কেবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইউরোপ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো নতুন নতুন এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালে ইউরোপের তিনটি দেশ—ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর লক্ষণ মৃদু হয় এবং ১-২ সপ্তাহের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, যা মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

* উচ্চমাত্রার জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত) * তীব্র মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা * মাংসপেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা * বমি বমি ভাব ও শরীরে র‍্যাশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর অনেকেরই বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে শারীরিক দুর্বলতা থাকতে পারে।

তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে:

* তীব্র পেটে ব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া * দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত * রক্তবমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া * প্রবল তৃষ্ণা, দুর্বলতা এবং ত্বক ফ্যাকাশে বা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ডেঙ্গুর কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর তরল খাবার পান করতে হবে। ব্যথানাশক হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল ‘প্যারাসিটামল’ সেবন করা যাবে। তবে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া। যেহেতু ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে, তাই দিনেও সতর্ক থাকতে হবে।

* শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরুন। * দিনের বেলা ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন। * জানালায় নেট লাগান এবং মশারি তাড়ানোর স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করুন। * মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে ঘর ও আঙিনায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখুন।

বর্তমানে একটি টিকা (QDenga) কিছু দেশে অনুমোদিত হলেও, এটি শুধু ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

logo

সম্পাদক ও প্রকাশক : মো. নজরুল ইসলাম