বাসের ধাক্কায় মারা গেল পেটের সন্তান, আইসিইউতে মা
নিজস্ব প্রতিনিধি
০১ আগস্ট, ২০২৬, 1:24 PM
নিজস্ব প্রতিনিধি
০১ আগস্ট, ২০২৬, 1:24 PM
বাসের ধাক্কায় মারা গেল পেটের সন্তান, আইসিইউতে মা
চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসের ধাক্কায় দুই নারী নিহত হয়েছেন। এ সময় ওই অটোরিকশায় থাকা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কাউসার আক্তার গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে তিনি সেখানে একটি মৃত ছেলে সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে ওই নারী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি গ্রামে নবজাতককে দাফন করা হয়। সন্তানকে মাটির নিচে শুইয়ে রেখেই কাউসার আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ আরিফ আবার ছুটে যান হাসপাতালের আইসিইউর বাইরে। সেখানে তখনও জ্ঞান ফেরেনি কাউসারের।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৮ বছর ধরে কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) একটি কারখানায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন কাউসার আক্তার। তার মো. রাফি (১০) ও তাবাসসুম (৫) নামে দুটি সন্তান রয়েছে। মায়ের আকস্মিক এই পরিণতিতে শিশু দুটি এখন দিশেহারা।
ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল একই পরিবারের ৩ জনের
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাউসারের শ্বশুর মো. নুরুন্নবী বলেন, দুর্ঘটনায় আমার পুত্রবধূর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। এখনও তার জ্ঞান ফেরেনি। ছোট মেয়ে তাবাসসুম কিছুক্ষণ পরপর কান্নাকাটি করে মাকে খুঁজছে। পেটের সন্তান তো বাঁচানো গেল না, আমি শুধু চাই আমার বউমা যেন সুস্থ হয়ে ফিরে আসে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক চত্বরে কেইপিজেডের শ্রমিকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।