NL24 News
১৪ মার্চ, ২০২৪, 11:36 AM
বামনায় গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া এনজিও, গ্রেফতার ১
নূর হোসেন, বামনা (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার বামনা উপজেলায় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন এনজিও নামে অফিস খুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান আসামী আতাউর রহমানের বিরুদ্ধে। বরগুনার বামনা থানায় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন এর মাঠকর্মী মোসাঃ রুবিনা (৩৬) এর করা এজাহার সূত্রে জানা যায় গত ০১/০৭/২০২৩ তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় আমি সাংসারিক কাজে ব্যস্ত ছিলাম ৷ তখন ০২ নং আসামী আজিজুল হক ও ০৪ নং আসামী মোসাঃ পারভীন আমার বসত বাড়ীতে আসে এবং আমাকে দেখিতে পাইয়া ০২ নং আসামী আজিজুল হক বলে “আমি বামনা থানাধীন আমতলী সাকিনে সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামক এনজিও এর এরিয়া ম্যানেজার” এবং ০৪ নং আসামী মোসাঃ পারভীন বলে "আমি বামনা থানাধীন সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামক এনজিও এর সুপার ভাইজার হিসাবে চাকুরী করি, আমাদের এনজিওতে কিছু মাঠ পর্যায়ের মহিলা কর্মী প্রয়োজন আপনাদের এলাকার চাকুরী করার মতো কিছু মহিলা আছে নাকি”।
তখন আমি চাকুরীর সুযোগ সুবিধা জানতে চাইলে ০২ ও ০৪ নং আসামী আমাকে জানায় সকাল ০৮.০০ ঘটিকা হইতে দুপুর ০২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত ডিউটি এবং তাহাদের বেতন প্রাথমিক পর্যায় ১২,০০০/- টাকা থেকে শুরু হবে এবং আস্তে আস্তে বেতন বৃদ্ধি হবে।আসামীদ্বয়ের উক্ত কথা আমি সরল মনে বিশ্বাস করিয়া আসামীদ্বয়ের উক্ত কথিত সোনার বাংলা ফাউন্ডেশন নামক এনজিওতে চাকুরী করার জন্য রাজি হই ৷ তখন আসামীদ্বয় আমাকে জানায় যে, আরো ০৩ জন মহিলার চাকুরীর কোঠা খালী আছে ০৩ জন মহিলা পাইলে “আমাদের জানাবেন ৷ তখন আমি ১ নং সাক্ষী মোসাঃ ডলি আক্তারকে উক্ত কথা জানাইলে ০১ নং সাক্ষী মোসাঃ ডলি আক্তার আমার কথায় রাজি হয়। অতঃপর আমি ও ০১ নং স্বাক্ষী ডলি আক্তার ইং০৪/০৭/২০২৩ তারিখ সকাল ০৮.০০ ঘটিকার সময় আসামীদ্বয়ের কথিত অফিস “বামনা থানাধীন ০২ নং বামনা সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত ০৮ নং ওয়ার্ড আমতলী সাকিনে জনৈক কামল হোসেন (৫০), পিতা-আব্দুল হক এর মালিকাধীন বিল্ডিং এর নিচ তলায়" গেলে সেখানে ০১ ও ০৩নং আসামিদের উপস্থিতি দেখিতে পাই এবং ০২ ও ০৪ নং আসামীর সহযোগী ০১ ও ০৩ নং আসামী বলিয়া জনায় এখং আমাদের অদ্যই মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করিতে বলে এবং জয়েন লেটার ইং ২০/০৪/২০২৩ তারিখ অফ উদ্বোধনের দিন দিবে মর্মে জানায় ।
আসামীদের কথামত আমরা মাঠ পর্যায় লোন দেওয়ার জন্য সদস্য তৈরির কাজে বের হই এবং আমাদের সাথে সাথে উল্লেখিত আসামীরা একিভুত হয়। আসামির যেহেতু এলাকায় নতুন" তাই আমরা এলাকা পরিচয় করিয়ে দেই এবং আসামীরা এলাকার সরল সহজ মানুষের কাছে গিয়ে “আমাদের এনজিও থেকে লোন দিবো তাই যাহারা ১,০০,০০০/- টাকার লোন নিবেন ত্যহাদের সঞ্চয়ের অগ্রীম ১০,০০০/- দিতে হবে, ৫০,০০০/- টাকার লোন নিলে অগ্রীম ৫,০০০/- টাকা, ২০,০০০/- টাকার লোন নিলে অগ্রীম ২,০০০/- দিতে হবে। আসামীদের কথায় বামনা থানা এলাকার বর্নিত সাক্ষীরাসহ আরো ৬০/৬৫ জন সাক্ষীরা সরলভাবে বিশ্বাস করিয়া লোন নেওয়ার আসায় সর্বমোট ৫,০৮,৯৫০/- টাকা জমা দিলে আসামীরা উক্ত টাকা আসাধুভাবে গ্রহণ করিয়া ইং১৬/০৭/২০২৩ তারিখ রাতের অন্ধকারে আমাদের সরলতার সুযোগে অপরাধ জনক বিশ্বাস ভঙ্গ করে প্রতারনা করিয়া টাকা আত্মসাৎ করে বামনা থানা এলাকা হইতে পালিয়ে যায়। মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে বামনা থানার এস আই খলিলুর রহমান গোপন সূত্রে ১২/৩/২০২৪ইং তারিখ বরিশাল রূপাতলী থেকে এই প্রতারক আতাউরকে গ্রেফতার করে বামনা থানায় নিয়ে আসেন এবং পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল ১৩/০৩/২০২৪ইং তারিখ বরগুনা আদালতে প্রেরণ করেন।