নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, 3:13 PM
বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন: ইইউ মিশন
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের উপ-প্রধান ইন্তা লাসে বলেছেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে কী ঘটেছিল, তা সবাই জানে এবং এ কারণেই এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসতে পেরে ইইউ মিশন গর্বিত। শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্তা লাসে এসব কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কতটা মানা হচ্ছে, সেটি পর্যবেক্ষণ করাই মিশনের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মোতায়েন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মিশনের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং তারা আশা করছেন, কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে না। ইন্তা লাসে জানান, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচনী কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা সম্পর্কে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন আরও ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা ও ফলাফল প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচনের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইইউ মিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। পরে সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি। ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ইভার্স ইইয়াবস বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন বলতে নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীসহ সব নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে বোঝায়। তিনি বলেন, ভোটার উপস্থিতি যেন বিশ্বাসযোগ্য হয়, সে দিকেই মিশনের বিশেষ নজর থাকবে, যাতে নাগরিকরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারেন। ২০০৮ সালের পর এটিই বাংলাদেশের নির্বাচনে ইইউর প্রথম পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ মিশন। এতে ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের পাশাপাশি কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক অংশ নিচ্ছেন।