নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ আগস্ট, ২০২২, 10:43 AM
ফের চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ
গাজীপুরে যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- মো. রাকিব মোল্লা (২৩), সুমন খান (২০), মো. সজিব (২৩), মো. সুমন হাসান (২২) ও মো. শাহিন মিয়া (১৯)। পুলিশ জানায়, গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়াবাইপাস এলাকা থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাস যাত্রী নিয়ে শ্রীপুরের দিকে রওনা হয়। বাসের বেশিরভাগ যাত্রী গাজীপুর চৌরাস্তা ও রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তায় নেমে যায়। গাজীপুর সদর উপজেলা হোতাপাড়া এলাকায় এসে ওই নারীর স্বামীকে বাস থেকে জোর করে নামিয়ে দেয় বাসে থাকা কয়েকজন। উপজেলার এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার ও জৈন বাজার এলাকার মহাসড়ক ঘুরে দীর্ঘ সময় পাঁচজন মিলে নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এরপর জৈনা বাজার ইউটার্ন ঘুরে ওই নারীকে গাজীপুর সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় নির্জন জঙ্গলে ফেলে দেয়। পরে ওই নারীর স্বামী প্রথমে জয়দেবপুর থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান। গাজীপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন বলেন, ‘নওগাঁ থেকে এক নারী স্বামীর সঙ্গে বাসে করে এসে রাত সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগড়া বাইপাসে নামেন। পরে তিনি স্বামীর সঙ্গে মাওনা যাওয়ার উদ্দেশে তাকওয়া পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসটি গাজীপুর শহর অতিক্রম করে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দিয়ে শ্রীপুরের মাওনা এলাকায় পৌঁছালে বাসের চালক হেলপার এবং অন্যরা মিলে নারীর স্বামীকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে দেয়।’ এরপর চলন্ত বাসে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ এবং নগদ টাকাপয়সা ছিনিয়ে নেয়া হয়। ধর্ষণের পর মাওনা থেকে গাজীপুরের দিকে আসার পথে হোতাপাড়া এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নির্জন স্থানে ওই নারীকে নামিয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় নারীর স্বামী বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় ধর্ষণ মামলা করেছেন।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘এ ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যে জেলা পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।’ ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারদের নাম ঠিকানা জানাতে চাননি পুলিশ কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন। জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় শ্রীপুর থানায় মামলা (নম্বর ১২) হয়েছে। সব আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। লুট করা সব মালামাল উদ্ধার হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার (৭ আগস্ট) বিস্তারিত বলা যাবে।’ আসামিদের কাছ থেকে ওই নারীর একটি ফিচার ফোন, ভ্যানিটি ব্যাগ, ৪ হাজার টাকা, ২টি ট্রাভেল ব্যাগ, ২ কেজি চাল, আধা কেজি ভুট্টা, ২৫০ গ্রাম পোলাওর চাল, একটি এটিএম কার্ড, এক বয়াম আমের আচার উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সানোয়ার হোসেন জানান, আসামিরা সবাই পরিবহন শ্রমিক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছে। রোববার তাদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার কথা রয়েছে।