NL24 News
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২, 3:08 PM
ফুলবাড়ীতে শারদীয় দূর্গা পুজার প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আসন্ন দূর্গা পুজাকে সামনে রেখে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে সব জিনিস পত্রের দাম বেশী হওয়ায় প্রতিমায় তৈরীতে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তেমন একটা লাভ হবেনা বলে অসন্তষ্ট প্রকাশ করেছেন মৃৎশিল্পীরা। জানা গেছে, এবার উপজেলায় ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৫৯ টি মন্ডপে পালিত হবে শারদীয় দূর্গোৎসব। এ উৎসব উপলক্ষে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন উপজেলার মৃৎশিল্পীরা। বর্তমানে বাঁশ, খড় ও কাঁদামাটি দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরি ও প্রলেপ দেওয়ার প্রাথমিক কাজ শেষ করেছেন অনেকেই । কিছু কিছু মন্ডপে প্রতিমার গায়ে রং তুলির আঁচড় দিতেও দেখা যায়।
সময় মতো কাজ শেষ করতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও প্রতিমা তৈরিতে সহযোগিতা করছেন। উপজেলার শিবনগর উনিয়নের কালিরহাট গ্রামের মৃৎ শিল্পী বিজয় কুমার বলেন, আমার বাবা ও কাকাসহ আমরা ৫টি মন্ডবের প্রতিমা তৈরীর কাজ নিয়েছি। প্রকার ভেদে কোনটা ২৫ হাজার আবার কোনটা ৩৫ হাজার করে কন্ট্রাক নেওয়া আছে। বাঁশ, সুতলী মাটিসহ প্রতিমা তৈরীর উপকরন সংগ্রহ করতে অনেক টাকা লেগে যাচ্ছে। এবার খরচ অনেক বেশি হওয়ায় লাভ কম হবে। উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্যামাকালী মন্দিরে দূর্গা প্রতিমা তৈরী করছেন মৃৎ শিল্পী প্রদীপ চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, সঠিক সময় কাজ শেষ করতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছি। সময়মতো নাওয়া খাওয়া হচ্ছেনা। রাত জেগে কাজ করতে হচ্ছে।দিনাজপুর পুজা উদযাপন কমিটির নির্বাহী সদস্য, দৈনিক দেশ‘মা পত্রিকার সম্পাদক ও ফুলবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক অমরচাদ গুপ্ত অপু বলেন, দূর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় ভক্তকূলের মধ্যে আনন্দের জোয়ার ও উৎসবের হাওয়া বইছে। এবারে মা দূর্গা গজে অর্থাৎ হাতিতে চড়ে আগমন ও রোগ, শোক মুক্ত করে নৌকায় চড়ে গমন করবেন। শারদীয় দুর্গা উৎসব পালনে সকল পুজা মন্ডপে প্রশাসনের পাশাপাশি পুজা উদযাপন কমিটির নির্দেশনা দেওয়া আছে। আগামী ০১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে শুরু হয়ে ০৫ অক্টোবর বিজয়া দশমী হবে। পরের দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে স্বারদীয় দূর্গা উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম বলেন, আসন্ন স্বারদীয় দূর্গা উৎসবকে সামনে রেখে আমরা প্রসাশনের উচ্চ পর্যায়ে দফায় দফায় মিটিংক করছি। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ৫৯ টি পূজামন্ডপে পুজা অনুষ্ঠিত হবে। শর্তকতার সহিত পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কাজ করছে। যেকোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আমরা সতর্ক আছি।