লাইফস্টাইল ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, 2:51 PM
প্রতিদিন পরোটা খেলে কী হয়
সকালের নাশতা ঠিকমতো না করলে সারাদিন শরীর–মন দুটোই যেন ক্লান্ত লাগে। তাই দিনের শুরুতে কী খাচ্ছেন, সেটার প্রভাব পড়ে আপনার পুরো দিনের ওপর। আমাদের দেশে সকালের নাশতায় পরোটা খুবই জনপ্রিয়। অনেকের তো সকাল মানেই গরম পরোটা। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পরিচিত খাবারটি আদৌ স্বাস্থ্যকর, নাকি অজান্তেই শরীরের ক্ষতি করছে? এ বিষয়ে এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ডায়েটিশিয়ান বৈশালী ভার্মা ও পুষ্টিবিদ নিতি শর্মা পরোটা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক উপায়ে তৈরি হলে পরোটা সকালের নাশতার জন্য মোটেও খারাপ নয়। বরং এতে কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবারের ভালো সমন্বয় থাকে, যা শরীরে শক্তি জোগায়। ডাল, দই বা পনিরের সঙ্গে পরোটা খেলে প্রোটিনের ঘাটতিও পূরণ হয়।
তবে সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন পরোটা বানাতে অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করা হয় বা প্রতিদিন একইভাবে খাওয়া হয়। তখন এই স্বাস্থ্যকর খাবারই ধীরে ধীরে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন পরোটা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে হজমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি কিংবা অন্যান্য জটিলতার কারণ হতে পারে।
চাইলেই যে সকালে পরোটা খাওয়া যাবে না এমন নয়। তবে প্রতিদিন একই খাবার খাওয়ার বদলে নাশতায় বৈচিত্র্য আনা খুব জরুরি। প্রতিদিন পরোটা খেলে একঘেয়েমি তো আসেই, পাশাপাশি শরীরও সব ধরনের পুষ্টি পায় না।ডায়েটিশিয়ানদের মতে, যদি পরোটা খেতেই হয়, তাহলে সেটার সঙ্গে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর সঙ্গী খাবার রাখুন। যেমন দই, শাকসবজি বা ডাল। আর যাদের গ্যাস্ট্রিক বা হজমের সমস্যা আছে, তাদের জন্য পরোটা এড়িয়ে চলাই ভালো।
স্বাস্থ্যকর পরোটাকে বানানোর কৌশল
সামান্য সচেতন হলেই পরিচিত এই খাবারটিকে অনেক বেশি পুষ্টিকর করে তোলা সম্ভব।
পুষ্টিবিদ নিতি শর্মার দেয়া কিছু সহজ পরামর্শ—
মিহি আটা নয়, গোটা গম বা মাল্টিগ্রেন আটা ব্যবহার করুন। এতে ফাইবার বেশি থাকে এবং হজমও সহজ হয়।
পরোটার ভেতরে শাকসবজি দিয়ে স্টাফিং করলে স্বাদ যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে ভিটামিন ও মিনারেলও।
তেল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখুন। দুইটি পরোটার জন্য অল্প পরিমাণ তেলই যথেষ্ট।
রান্নায় এমন মশলা ব্যবহার করুন যেগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণে ভরপুর।
পরোটার সঙ্গে দই রাখুন। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
চাইলে সঙ্গে তাজা শাকসবজি বা মসুর ডাল যোগ করতে পারেন, এতে খাবার আরও পরিপূর্ণ হবে।
ব্যস্ততার কারণে আমরা অনেক সময় সকালে দ্রুত কিছু খেয়েই বের হয়ে পড়ি, আর সেখানেই শুরু হয় সমস্যার মূল। পরোটা খারাপ নয়, তবে অস্বাস্থ্যকরভাবে খাওয়ার অভ্যাস ক্ষতির কারণ। তাই খাবারের ব্যপারে সচেতন থাকুক। সচেতন থাকলেই প্রতিদিনের নাশতাআ রো স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকরভাবে বানানো সম্ভব।