পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ আগস্ট, ২০২৬, 11:59 AM
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ আগস্ট, ২০২৬, 11:59 AM
পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ কোনো বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, মানবিক, পেশাদার ও সেবামুখী বাহিনী হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। রোববার (২ আগস্ট) সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদেরও পূর্ণ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পেশাগত জীবনে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার যাতে গ্রাস করতে না পারে, সে বিষয়ে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিরপেক্ষতা ও মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। গণ-অভ্যুত্থানের পর তৈরি হওয়া নতুন প্রত্যাশা পূরণে সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ যত্নবান হতে হবে।
ডিজিটাল যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নবীন কর্মকর্তাদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের তাগিদ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ ও প্রযুক্তিভিত্তিক জালিয়াতি দ্রুত বাড়ছে। এসব দমন করতে আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ ও কারিগরি পারদর্শিতা বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার তাদের ছয় মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশিক্ষণে বিভিন্ন বিষয়ে সেরা ফলাফল অর্জনকারীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—দুই বিভাগেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এ ছাড়া ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন এ বি এম মামুন।
কুচকাওয়াজে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির এবং পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।