আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ মার্চ, ২০২২, 10:35 AM
পাকিস্তানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র: দিল্লির কথাই মানল যুক্তরাষ্ট্র
ভারত থেকে পাকিস্তানে হঠাৎ যাওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে দিল্লির যুক্তিই মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভারত থেকে পাকিস্তানে গত ৯ মার্চ যে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছিল, তাকে নেহাতই দুর্ঘটনা বলে জানাল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ভারতও জানিয়েছিল, তারা পাকিস্তানে ইচ্ছে করে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়েনি। যে ক্ষেপণাস্ত্র গিয়েছিল, তা দুর্ঘটনাবশত, কারিগরি ত্রুটির কারণে ঘটেছে। রক্ষণাবক্ষণের সময় ভুল করে তা পাকিস্তানে চলে যায়। এ জন্য ভারত গভীর দুঃখপ্রকাশও করেছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে, ডন ও ইকোনিমিক টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্র কী বলল
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেছেন, পাকিস্তানে যে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছিল, তা নেহাতই দুর্ঘটনা। প্রাইস বলেছেন, আপনারা ভারতের বক্তব্য শুনেছেন। আমরাও এমন কোনো ইঙ্গিত পাইনি, যা থেকে মনে হতে পারে এটি দুর্ঘটনা নয়। প্রাইস সোমবার বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গত ৯ মার্চ একটি বিবৃতি দিয়েছে। তারা ব্যাখ্যা করে বলেছে, কেন এটা ঘটেছে। তার বাইরে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই।
ভারত কী জানাল
গত ৯ মার্চ ভারত জানিয়েছিল, পাকিস্তানে দুর্ঘটনাবশত ক্ষেপণাস্ত্র গিয়ে পড়েছে। তার জন্য ভারত গভীরভাবে দুঃখিত। প্রযুক্তিগত ত্রুটির জন্যই এটা হয়েছে। রুটিন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করার সময় এই ত্রুটি দেখা দেয়। সরকার বিষয়টি মোটেই হালকা করে দেখছে না। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার কুলদীপ সিং দ্য কুইন্টে লিখেছেন, বিশ্বজুড়ে এ স্ট্র্যাটেজিক অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ মানুষই করে। কিন্তু যা হয়েছে, তাতে ভারতের কৌশলগত অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও লঞ্চ প্রটোকল নিয়ে অন্যরা নানা কথা বলতে পারে। কিন্তু অতীতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায় এ নিয়ে মানুষের যে ভুল হয়নি তা নয়।
পাকিস্তানের বক্তব্য
পাকিস্তানে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পাকিস্তানও পাল্টা মিসাইল ছুড়তে পারত। কিন্তু আমরা ধৈর্যধারণ করেছি। তিনি বলেন, মিয়া চান্নুতে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার পর আমরা পাল্টা জবাব দিতে পারতাম কিন্তু আমরা সংযম পালন করেছি। এ সময় নিজ দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি সম্পর্কেও কথা বলেন ইমরান খান। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিরক্ষা এবং দেশকে শক্তিশালী করতে হবে। এর আগে শনিবার (১২ মার্চ) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যে প্রস্তাব দিয়েছে, এ রকম সাধারণ একটি ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সমাধান হওয়া উচিত না। কাজেই দুর্ঘটনাকে ঘিরে ঘটনাবলিকে নির্ভুলভাবে প্রমাণ করতে একটি যৌথ তদন্ত দরকার। পাকিস্তানের আইএসপিআরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল বাবর ইফতিখার বলেন, পাঞ্জাব প্রদেশের মিয়া চান্নুতে এসে ক্ষেপণাস্ত্রটি পড়েছে। এতে পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। যেখানে সেটি পড়েছে সেখানে কোনো স্পর্শকাতর স্থাপনা নেই। ২০০৫ সালে সই হওয়া ভারত-পাকিস্তানের চুক্তি অনুসারে, দুই দেশই কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চাইলে প্রতিবেশী দেশকে তা অন্তত তিন দিন আগে জানাতে হবে। আর পরীক্ষার কোনো প্রভাব যাতে ৭৫ কিলোমিটারের মধ্যে না পড়ে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।